মিল্টন সেন, হুগলি: চারচাকা গাড়ি, মোটর বাইক অনেক দূরের কথা। বর্তমান সময়ে স্মার্ট ফোন, বাইক নেই, এমন মানুষ খুব একটা দেখা যায় না। তাও আবার শাসক দলের পঞ্চায়েত প্রধানের। তাঁর কাছে নেই দামি চারচাকা গাড়ি, সোনার চেন, দামি হাতঘড়ি। নেই মোটর বাইক, এমনকী একটা স্মার্ট ফোন পর্যন্ত নেই। ভোর থেকে বেলা পর্যন্ত চাষের কাজ সামলে বাড়ি ফিরে, সাইকেল চালিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছন বালিগোরি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীনবন্ধু মাটি। প্রতিদিন কাক ভোরে কোদাল হাতে নেমে পড়েন চাষের জমিতে। কৃষিকাজ সেরে বাড়ি ফিরে কিছু খাওয়া। বেলা দশটা বাজলেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ সাইকেলে চালিয়ে পৌঁছন পঞ্চায়েত অফিসে। 

 

মাটির মানুষ হিসাবেই এলাকায় পরিচিত দীনবন্ধু মাষ্টারমশাই। শুরু থেকেই খুব সাদামাটা। সময়ের অভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেই ছেড়েছিলেন শিক্ষকতা। তবু আজও সকলের কাছে মাস্টারমশাই হিসেবে পরিচিত তিনি। তারকেশ্বরের জয়পুর গ্রামে থাকেন দীনবন্ধু। মানুষকে সময় দিতে শিক্ষকতা ছেড়েছেন। পঞ্চায়েতের প্রধান, তবুও অতি সাধারণ জীবনযাপন করেন। পঞ্চায়েতের কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথেও মানুষের সঙ্গে জনসম্পর্ক, তাঁর দৈনিক রুটিন। অভাবের সংসারে বড় হয়ে ওঠা দীনবন্ধু। তাঁর বাবা মধুসূদন বাবুও ছিলেন প্রান্তিক কৃষক। চাষের জমি থেকে যা উপার্জন হতো তা দিয়েই তিনি চালিয়েছেন সংসার। সন্তানদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন। মাধ্যমিক পাশ করার পর নিজের পড়াশোনা চালাতে দীনবন্ধু ছাত্র পড়ানো শুরু করে ছিলেন। 

 

উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ। বাণিজ্য নিয়ে স্নাতক, অর্থশাস্ত্রে অনার্স অথচ রাজনীতির টানে পড়াশোনার ইতি ঘটে। শুরুতে কংগ্রেস, তাঁর পর তৃণমূল কংগ্রেসে। প্রয়াত কংগ্রেসের প্রাক্তন এম এল এ বলাইলাল শেঠের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে। পরবর্তীতে কংগ্রেস সেবা দলের তারকেশ্বর ব্লকের সদস্যপদ পান। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর আন্দোলন করতে গিয়ে দশ দিন জেলও খাটেন। 

 

১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে। প্রথমে জয়পুরের বুথ সভাপতি দায়িত্ব। তাঁর পর অঞ্চল কমিটির দায়িত্ব। কৃষাণ ক্ষেত মজদুর সংগঠনের সদস্য। অবশেষে ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করার পর বর্তমানে বালিগড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বাড়িতে রয়েছে তাঁর দুই মেয়ে ও স্ত্রী। দীনবন্ধু বাবু বলেছেন, বরাবরই তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। বাবা চাষবাস করতেন। বর্তমানে তিনি নিজেও চাষ করেন। এলাকায় বহু গরিব মানুষ রয়েছেন। সবসময় তিনি চেষ্টা করেন মানুষের পাশে থাকার। কীভাবে মানুষের কাজ করতে হয় তা তিনি শিখেছেন নেত্রী মমতা ব্যানার্জির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। তাই গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়িত্ব সামলে বাড়ি ফেরার পথে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া দায়িত্বও পালন করেন। প্রতিদিন সাইকেলে চালিয়ে আজও জনসংযোগ করেন।

ছবি পার্থ রাহা।