আজকাল ওয়েবডেস্ক: এজেজারি বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত দিল্লি। ২ ম্যাচে চার গোল করে ফেললেন ইস্টবেঙ্গলের নব্য বিদেশি। 

গোল করার লোকের অভাবে এতদিন ধরে ভুগছিল অস্কার ব্রুজোঁর দল। এজেজারি এলেন, দেখলেন আর জয় করে নিলেন। 

অভিষেক ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন। এদিনও তাঁর নামের পাশে জোড়া গোল। এজেজারির সতীর্থরাই বলছেন, ঠিকঠাক চলতে শুরু করলে এজেজারি এবার অনেক গোল করবে। 

এজেজারির জোড়া গোলে ইস্টবেঙ্গলের চার। আরও গোল করতেই পারত অস্কার ব্রজোঁর ব্রিগেড। প্রথমার্ধে তিন গোল হল। দ্বিতীয়ার্ধে একটি। মিগুয়েলের বাঁ পা গর্জে উঠল খেলার শেষের দিকে। ওরকম গোল একমাত্র মিগুয়েলের পক্ষেই করা সম্ভব। 

আরও গোল হতেই পারত। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন মিগুয়েলরা। কিন্তু ঠোঁট ও পেয়ালার মধ্যে যে দূরত্ব থাকে, এক্ষেত্রেও সেই দূরত্ব থেকেই গেল। টানা দুই ম্যাচে আধিপত্য নিয়ে জয় ইস্টবেঙ্গলের।

শনিবার অবশ্য শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলকে চাপে ফেলে দিয়েছিল দিল্লি। ৪ মিনিটে খেলার গতির বিপরীতেই দিল্লিকে এগিয়ে দেন আগস্টিন। লাল-হলুদ ডিফেন্সকে সম্মোহীত করে গোলটি করেন তিনি। 

তার পরে শুরু হয় ইস্টবেঙ্গল ঝড়। খেলার সাত মিনিটে এডমুন্ডের বিস্ফোরণ। বলের গতি এবং জোর এতটাই ছিল যে দিল্লির গোলকিপারের হাতে লেগে বল জালে আশ্রয় নেয়। খেলার বয়স তখন ৭ মিনিট। 

এর পাঁচ মিনিট পরেই ইস্টবেঙ্গল পেনাল্টি পায়। এক্ষেত্রেও এডমুন্ডেরই কৃতিত্ব। তাঁকে পেনাল্টি বক্সের ভিতরে ফেলে দেওয়া হলে রেফারি পেনাল্টি দেন ইস্টবেঙ্গলকে। পেনাল্টি থেকে খুব সহজেই গোল করে লাল-হলুদকে এগিয়ে দেন এজেজারি। ৪০ মিনিটে মিগুয়েলের ম্যাজিক-পাস থেকে এজেজারির দ্বিতীয় গোল। 

এজেজারির জোড়া গোলের দিন মিগুয়েল বাঁ পায়ে শিল্প এঁকে গেলেন। এজেজারির দ্বিতীয় গোলটার পাস এককথায় দুর্দান্ত। এজেজারি তাঁর পা ছুঁতে যান। এজেজারি এদিন হ্যাটট্রিকও করে ফেলতে পারতেন। 

লাল-হলুদের নব্য বিদেশির হেড ধরে ফেলেন দিল্লির গোলকিপার। নাহলে বিরতির সময়তেই চার-পাঁচ গোল দিতে পারত ইস্টবেঙ্গল। 

দ্বিতীয়ার্ধে নন্দকুমারকে গোলের গন্ধ মাখা পাস বাড়িয়েছিলেন মিগুয়েল। গোলকিপারের সঙ্গে হ্যান্ডশেক দূরত্ব থেকে সেই গোল করতে পারেননি নন্দকুমার। মিগুয়েলের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। আর শেষের দিকে কামানদাগা শটে ৪-১ করেন মিগুয়েল। 
এবারের আইএসএলে শুরুটা দুর্দান্ত করেছে লাল-হলুদ। সমর্থকরা বলছেন, এই দৌড় যেন না থামে মিগুয়েল-রশিদদের।