আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামতে চলেছেন লিওনেল মেসি। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কৌশলগত বিশ্লেষণ। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার ওয়েন রুনি মনে করেন, মেসির রক্ষণকে সাহায্য না করার প্রবণতা আর্জেন্টিনাকে সমস্যায় ফেলতে পারে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, আক্রমণভাগে মেসির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য অতুলনীয়।একটি সাক্ষাৎকারে রুনি বলেন, 'রক্ষণে আর্জেন্টিনার জন্য মেসি কিছুটা দুর্বলতা হতে পারে। নীচে নেমে ডিফেন্ড করে না। তবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ প্রভাব ফেলে। অনেকটা জুড বেলিংহ্যামের মতো। মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তে জেগে ওঠে এবং প্রায় সব সময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। মেসিকে আটকাতে হলে পুরো মনোযোগ এবং সতীর্থদের সঙ্গে নিখুঁত যোগাযোগ রাখতে হবে।'
রুনির মতে, মেসিকে মার্ক করার সময় ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের এমন সব জায়গা কভার করতে হবে, যা সাধারণত তাঁদের করতে হয় না। কাগজে কলমে ইংল্যান্ডের দলে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ফুটবলারদের সংখ্যা বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা জুড বেলিংহ্যামকে সামনে রেখে থ্রি লায়ন্সের ফুটবলাররা গতি এবং শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলতে পারে। তবে রুনির প্রাক্তন সতীর্থ মাইকা রিচার্ডস ইংল্যান্ড শিবিরকে সতর্ক করে দেন। জানান, মেসির মতো প্রতিভাকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
রিচার্ডস বলেন, 'ইংল্যান্ড গতি দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ছাপিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ওদের দলে মেসি আছে। পুরো দলই ওকে ঘিরে খেলে। তাই এই ম্যাচ ঘিরে সবাই উত্তেজিত।' তিনি আরও বলেন, 'মেসিকে মার্ক করা প্রায় অসম্ভব। কারণ রক্ষণে ফেরে না। বরং এমন সব ছোট ছোট ফাঁকা জায়গায় চলে যায়, যেখানে সাধারণত কেউ থাকে না। ঠিক সময়ে নিজেকে সক্রিয় করে তোলে। টেকনিক অসাধারণ। মাঠে অবস্থান বোঝার ক্ষমতা দুর্দান্ত। শট নেওয়ার দক্ষতাও অনন্য। সবচেয়ে বড় বিষয়, জুড বেলিংহ্যামের মতো তাঁর মধ্যেও রয়েছে ব্যক্তিত্ব এবং উপস্থিতির প্রভাব। তবে মেসির ব্যক্তিত্বের আভা অন্য সবার থেকে অনেকটাই আলাদা। তাই এই লড়াই নিঃসন্দেহে দারুণ আকর্ষণীয় হতে চলেছে।' প্রথম সাক্ষাতেই কি ব্রিটিশদের মাত দিতে পারবেন মেসি? দলকে তুলতে পারবেন আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে?
















