আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফিফা ক্রমতালিকায় অনেক নীচের দিকে থাকা দলগুলোর বিরুদ্ধে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে মেসিদের। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু সেমিফাইনালের আগে এগুলোকে পাত্তা দিতে রাজি নয় লিওনেল স্কালোনি। দাবি, ভাল খেলে সেমিফাইনালের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছে তাঁরা। ফোকাসে শুধুমাত্র ইংল্যান্ড ম্যাচ। প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে আরও একটি ফাইনালে যেতে মরিয়া। 

ছয় ম্যাচে ছয় জয়। কিন্তু পারফরম্যান্স মনের মতো নয়। তবে স্বাভাবিকভাবেই দলের হয়ে গলা ফাটালেন আর্জেন্টাইন কোচ। স্কালোনি বলেন, 'লোকে যতটা খারাপ বলছে, দল মোটেই ততটা খারাপ খেলছে না। আমাদের পারফরম্যান্স দিয়েই এই জায়গায় পৌঁছেছি। আমি প্লেয়ারদের কাছে কৃতজ্ঞ। ওরা আমাদের তিনটে খেতাব জিতিয়েছে। এবার সেমিফাইনাল। আমরা মাত্র একধাপ দূরে। সেই জায়গায় পৌঁছনোর জন্য আমরা নিজেদের উজাড় করে দেব।' গ্রুপ শীর্ষ থেকে নক আউট পর্বে যায় আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে এবং সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ায়। মিশরের বিরুদ্ধে দু'গোলে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। আর্জেন্টিনার কোচের দাবি, টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে খেলার স্টাইলের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ রেজাল্ট। 

স্কালোনি বলেন,'আমরা যেমন খেলতে চেয়েছিলাম, তেমন পেরেছি কিনা সেই নিয়ে আমি ভাবছি না। কারণ দেড় মাস আগে যেভাবেই হোক আমি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে চেয়েছিলাম। তাই বাকি সবকিছুর গুরুত্ব নেই আমার কাছে। ক্লান্তি পার্থক্য গড়ে দেবে না। আমরা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। আমি খুবই উত্তেজিত। আমরা সবাই খুশি। আমরা ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি।' টানা চারবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসিরা। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ চারে যায় আর্জেন্টিনা। ২০২১ এবং ২০২৪ সালে ব্যাক টু ব্যাক কোপা আমেরিকা জিতেছিলেন মেসিরা। 

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। কিন্তু ফুটবলে ফকল্যান্ড যুদ্ধের কোনও প্রসঙ্গ টানতে চান না। মেসিদের কোচ বলেন, 'এটা একটা ফুটবল ম্যাচ। এটাই বাস্তব। এটার সঙ্গে অন্য কিছু মেলানো যাবে না। অবশ্যই আমাদের ইতিহাসের একটা কষ্টের অধ্যায়। তবে এই নিয়ে আমাদের বিশেষ কিছু করার নেই। দুটোর মধ্যে মিলিয়ে ফেললে হবে না।' বুধবার জিতে খেতাবের আরও কাছে পৌঁছতে চাইবেন মেসিরা। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপে জেতার পর প্রথমবার ফাইনালের লক্ষ্যে নামবে হ্যারি কেনরা।