রথে চড়ে মাসির বাড়ি যাবেন ৩ ভাইবোন, কিন্তু জগন্নাথের 'মাসি' আসলে কে? জানুন কী বলছে পুরাণ-লোকগাঁথা
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ জুলাই ২০২৬ ১৮ : ৪০
শেয়ার করুন
1
8
আগামী ১৬ জুলাই ধুমধাম করে পালিত হবে রথ যাত্রা। এদিন রথে চেপে মাসির বাড়ি যাবেন প্রভু জগন্নাথ। সঙ্গে যাবেন তাঁর আরও দুই ভাইবোন, বলরাম এবং সুভদ্রা। কিন্তু জানেন কি তাঁদের এই মাসি আসলে কে? কী বলছে পুরাণ এবং লোকগাঁথা? ছবি- সংগৃহীত
2
8
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেবের মাসি হলেন রানি গুণ্ডিচা। অর্থাৎ পুরীর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের স্ত্রী। সেই কারণেই রথ যাত্রার দিন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা তাঁদের তিন বিশাল রথে চেপে গুণ্ডিচা মন্দিরে যান। সেখানেই ৭ দিন থেকে উল্টো রথের দিন পুরীর শ্রী মন্দিরে ফিরে আসেন। ছবি- সংগৃহীত
3
8
কিন্তু রানি গুণ্ডিচা কীভাবে প্রভু জগন্নাথের মাসি হলেন? পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, যখন দারু ব্রহ্ম থেকে দেবমূর্তি গড়া হচ্ছিল, তখন শিল্পী শর্ত দিয়েছিলেন তিনি যতক্ষণ না নিজে থেকে মূর্তি বানিয়ে দরজা খুলছেন মন্দিরের ততক্ষণ যেন কেউ ভিতরে না আসে। বহুদিন পরও যখন তিনি দরজা খোলেন না তখন রানি গুণ্ডিচা তাঁর স্বামীকে দরজা খোলার অনুরোধ করেন। কিন্তু রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ইতস্তত করতে থাকেন। তখন রানি দরজা খোলেন আর দেখেন মূর্তি অর্ধনির্মীত অবস্থায় পড়ে। ছবি- সংগৃহীত
4
8
এই দেখে রানি কান্নাকাটি শুরু করলে নারদ জানান প্রভুর এটাই ইচ্ছে ছিল। তখন তিনি তাঁর ইচ্ছেপ্রকাশ করে জানান জগন্নাথদেব যেন তাঁর সন্তান হয়ে একবার জন্ম নেন। সেটা না হলেও জগন্নাথদেব তাঁর সন্তানসম হয়ে ওঠেন। এবং বছরে একবার করে সাতদিনের জন্য তাঁর বাড়ি আসেন ভাইবোনদের নিয়ে। এভাবেই তিনি জগন্নাথদেবের মাসি হয়ে ওঠেন। ছবি- সংগৃহীত
5
8
অন্য আর একটি বিশ্বাস এবং লোকগাঁথা অনুযায়ী, জগন্নাথদেবের মাসি হলেন দেবী আদর্শিনী। পুরীতে তাঁর একটি মন্দির আছে যা জগন্নাথ মন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দির যাওয়ার পথেই পড়ে। ছবি- সংগৃহীত
6
8
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, দেবী আদর্শিনী পুরীকে প্লাবনের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। তাঁর মন্দিরের নাম মাসি মা মন্দির। উল্টো রথের দিন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা যখন গুণ্ডিচা মন্দির থেকে শ্রী মন্দিরে ফেরেন তখন এই মাসি মার মন্দিরের সামনে রথ থামে। সেখানে জগন্নাথদেবের পছন্দের মিষ্টি পোড়া পিঠে নিবেদন করা হয়। ছবি- সংগৃহীত
7
8
তৃতীয় গল্প অনুযায়ী, দ্বাপরযুগে কৃষ্ণ যখন বৃন্দাবন থেকে দ্বারকায় চলে যান, তখন তাঁর গোপিনীরা বিরহে কাতর হয়ে পড়ে। এঁদের মধ্যে সবথেকে বেশি কষ্ট পান পৌর্ণ্মাসি। তাঁর নেতৃত্বে গোপিনীরা দ্বারকায় গিয়ে কৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করেন। তখন কৃষ্ণ তাঁকে কথা দেন কলিযুগে তিনি নবকলেবরে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে অবস্থান করবেন। এবং তিনি তখন তাঁর দুই ভাইবোনকে সঙ্গে নিয়ে পৌর্ণ্মাসির বাড়ি গিয়ে ৭ দিন কাটাবেন। গোপিনীদের সঙ্গে রাসলীলায় মেতে উঠবেন। ছবি- সংগৃহীত
8
8
ফলে এই তৃতীয় গল্প অনুযায়ী, জগন্নাথদেবের মাসি অর্থাৎ মায়ের বোন মাসি নয়, বরং পৌর্ণ্মাসির অপভ্রংশ। পৌর্ণ কথাটা সরে শুধু মাসি শব্দটা থেকে গিয়েছে।ছবি- সংগৃহীত