আজকাল ওয়েবডেস্ক: চার বছর আগে কাতারে লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তো বটেই, এমনকি অন্যান্য দেশের ফুটবল ভক্তরাও চেয়েছিলেন, মেসির মাথায় উঠুক বিশ্বসেরার মুকুট। কিন্তু চার বছর পরের ছবিটা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। এবার বিশ্বকাপ থেকে মেসিদের বহিষ্কারের দাবি তুলছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। টুর্নামেন্টের শুরুতে এমন অবশ্য ছিল না। কিন্তু ফিফা এবং রেফারিদের আর্জেন্টিনাকে নির্লজ্জভাবে সমর্থন জনরোষ সৃষ্টি করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। হাইভোল্টেজ লড়াই শুরুর আগেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে লিও মেসির দল। রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলা হচ্ছে। অনলাইনে শুরু হওয়া একটি পিটিশনে ইতিমধ্যেই ৭৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ সই করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'argentinaout.com' এর উদ্যোগে চালু হওয়া প্রচারে বলা হয়েছে, 'এটা স্পষ্ট যে ফিফা এবং রেফারিরা লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনাকে পক্ষপাতিত্ব করছে। বিজয়ী যদি আগেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে বিশ্বের বাকি দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অর্থ কী? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করুন এবং সবাইকে সমান সুযোগ দিন।'
বুধবার ভোর পর্যন্ত এই দরখাস্তে ৭৫ লক্ষেরও বেশি সই জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা, দুই দেশের ফুটবল দ্বৈরথ বহু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী। দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড (স্প্যানিশে মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অতিরিক্ত আবেগ যোগ করেছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ঠিক ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত 'হ্যান্ড অব গড' গোলের সুবাদে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। সেই ম্যাচ আজও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।
ম্যাচের আগে অতীতের বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে নারাজ ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। অতীতে পড়ে থাকতে চান না। কেন বলেন, 'একজন ফুটবলারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা শুধুই আরেকটা বড় ম্যাচ। আমরা একটা দুর্দান্ত দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামছি। ওরা বুদ্ধিমান, কৌশলী, ফাউল আদায় করতে জানে এবং প্রয়োজনে ম্যাচের গতি কমিয়ে দিতে পারে। ফুটবল জীবনে এমন অনেক দলের বিরুদ্ধেই খেলতে হয়। অতীতের আবেগ বা বিতর্ক আমাদের মনোযোগ নষ্ট করবে না।' রেফারি, ভার বিতর্কের আবহের মধ্যেই 'চোকার্স' তকমা ঝেড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর ব্রিটিশরা।
















