আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিবর্তন আনতে চলেছে আইসিসি। ছেলেদের ক্রিকেটের সব টুর্নামেন্টেই বদলে যাবে নিয়মকানুন। বুধবার এমনই ঘোষণা করল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। তারমধ্যে রয়েছে দুটো বিশ্বকাপও। ১৪ দলের একদিনের বিশ্বকাপে এবার থেকে চালু হবে তিন স্টেজের ফরম্যাট। টি-২০ বিশ্বকাপের ফরম্যাটেও বদল। এবার থেকে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে এলিমিনেটর নিয়ে 'সুপার ১০' ফরম্যাটে হবে। এডিনবার্গে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টের মান আরও উন্নত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ১৪টি দল অংশ নেবে। কিন্তু বদলে যাবে ফরম্যাট। টুর্নামেন্টকে ভেঙে দেওয়া হবে। ক্রমতালিকায় নীচের দিকে থাকা তিন দল রাউন্ড ওয়ানে খেলবে। এই পর্বের নাম দেওয়া হয়েছে 'সুপার সিরিজ।' সেরা দল পরের রাউন্ডে যাবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ১২টি দল অংশ নেবে। দুই গ্রুপে ভাগ করা হবে। ৩০টি ম্যাচ খেলবে। প্রত্যেক গ্রুপের সেরা তিন দল এবং দুটো গ্রুপ মিলিয়ে সেরা চতুর্থ দল পরের রাউন্ডে যাবে। এই পর্বের নাম 'সুপার ৭।' এটা রাউন্ড রবিন লিগ পর্ব। সব দলই সবার সঙ্গে ম্যাচ খেলবে। মোট ২১টি ম্যাচ হবে। এখান থেকে সেরা চার দল সেমিফাইনালে যাবে।
আইসিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়ানোর মাধ্যমে দর্শকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে উদীয়মান দলগুলিও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পাবে।' এদিকে ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে নতুন দেশগুলির ইতিবাচক পারফরম্যান্সে উৎসাহিত হয়ে আইসিসি ২০ দলের আসরের দ্বিতীয় পর্বের পরিধি আট দল থেকে বাড়িয়ে ১০ দল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রথম পর্বে ২০টি দলকে পাঁচটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রত্যেক গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল। আগে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হত। প্রত্যেক গ্রুপে পাঁচ দল থাকত। এই পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ খেলা হবে। প্রত্যেক গ্রুপের সেরা দুই দল 'সুপার ১০' পর্বে উঠবে। সেখানে দুটি গ্রুপে পাঁচটি করে দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
নকআউট পর্বেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সুপার ১০-এর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দল সরাসরি সেমিফাইনালে উঠবে। অন্যদিকে, দুই গ্রুপের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে ক্রসওভার 'এলিমিনেটর' ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলির বিজয়ী দুই দল সেমিফাইনালের বাকি দুটি স্থান নিশ্চিত করবে। এছাড়া আইসিসি ২০২৮ টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের রূপরেখাও নির্ধারণ করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে অংশ নেওয়া স্কটল্যান্ডকে 'বিশেষ পরিস্থিতির' কারণে সরাসরি ইউরোপ আঞ্চলিক ফাইনালে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, কিন্তু সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দলগুলি সরাসরি গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে খেলবে। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা আটটি দল। আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপ থেকে দুটি করে দল। আমেরিকা এবং ইস্ট এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একটি করে দল সুযোগ পাবে। ডেভেলপমেন্ট কমিটি এবং চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আইসিসি এই নতুন ফরম্যাটে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তবে আগামী নভেম্বরে ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে এই প্রস্তাব পেশ করা হবে। সেই বৈঠকে পর্যালোচনার পরই এই রোডম্যাপের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
















