আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সেই তালিকায় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দীর্ঘ-পাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার S-400।
2
9
উন্নত রাডার, একাধিক ধরনের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ক্ষমতার জন্য এই ব্যবস্থা বিশ্বের বহু দেশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি S-400-এর ক্ষেপণাস্ত্রের দামও সমানভাবে আলোচনায় থাকে।
3
9
একটি S-400 ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য সাধারণত ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২.৮ কোটি থেকে ৯.৫ কোটি টাকা। তবে S-400-এর সবচেয়ে উন্নত ও দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দাম আরও বেশি। এই মিসাইলের মূল্য ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯.৫ কোটি থেকে ১৯ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
4
9
ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা। এত দীর্ঘ দূরত্বে যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দ্রুতগতির লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করার ক্ষমতা রয়েছে এই ইন্টারসেপ্টরের। ফলে এটি S-400 ব্যবস্থার সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং উন্নত অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
5
9
প্রতিটি S-400 ক্ষেপণাস্ত্রে অত্যাধুনিক অ্যাকটিভ রাডার সিকার, নির্ভুল নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রকেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। এছাড়া উন্নত গাইডেন্স প্রযুক্তির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম এই মিসাইল। এই জটিল প্রযুক্তিগত উপাদানগুলিই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
6
9
যদিও একটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক কোটি টাকা, তবুও সম্পূর্ণ একটি S-400 ব্যাটারির মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪,৩০০ কোটি টাকারও বেশি।
7
9
তুলনামূলকভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারির দাম প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি। ফলে সামগ্রিকভাবে S-400 ব্যবস্থা এর তুলনায় অনেক কম খরচে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রদান করে।
8
9
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, S-400-এর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল এর পরিচালন ব্যয়। যদি মাত্র ১৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি কামিকাজে ড্রোন ধ্বংস করতে ২.৮ কোটি থেকে ১৯ কোটি টাকা মূল্যের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, তাহলে তা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়।
9
9
এই কারণেই বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ S-400 এর মতো দীর্ঘ-পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বল্পমূল্যের ড্রোন প্রতিরোধে আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, অ্যান্টি-ড্রোন মিসাইল, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর ফলে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বড় আকারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাও দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।