আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপে তুমুল চর্চায় রেফারিরা। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের পর যা আরও বেড়েছে। দাবি, নকআউট পর্বের ম্যাচগুলতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে মেসিরা। তারমধ্যে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে রেফারির নাম শুনে চমকে যেতে পারে ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপে এবার প্রথমবারের মতো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলই সেমিফাইনালে উঠেছে। ফলে এবারের শেষ চারের লড়াইয়ে কোনও অঘটনের সুযোগ নেই বললেই চলে। প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স এবং স্পেন। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এরই মধ্যে দুই সেমিফাইনালের জন্য রেফারিদের নাম ঘোষণা করেছে ফিফা।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ পরিচালনা করবেন মরক্কো-জন্ম মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। অন্যদিকে ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচে দায়িত্বে থাকবেন এল সালভাদরের ইভান বার্টন। চলতি বিশ্বকাপে একাধিক ভিএআর সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে রেফারিদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে বেশ কিছু সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রতিপক্ষ এবং সামাজিক মাধ্যমে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সেই আবহেই ইসমাইল এলফাথের নিয়োগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লিওনেল মেসির সঙ্গে এলফাথের অতীত সংযোগও কম নয়। ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ম্যাচে তিনি ছিলেন চতুর্থ রেফারি। সেই ম্যাচেই জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা নেন মেসি। এছাড়া ২০২৩ সালের লিগস কাপের ফাইনালেও এলফাথ দায়িত্বে ছিলেন। যেখানে মেসির একমাত্র গোলে ইন্টার মায়ামি নির্ধারিত সময়ে ড্র করে। তারপর টাইব্রেকারে ন্যাশভিল এসসিকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মেসির খেলা চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এলফাথ। সেই চারটিতেই জিতেছে ইন্টার মায়ামি। চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত তিনটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন ৪৪ বছরের রেফারি। নেদারল্যান্ডস-জাপান, স্পেন-উরুগুয়ে এবং নরওয়ে-ব্রাজিল ম্যাচে তিনি মোট আটটি হলুদ কার্ড এবং একটি লাল কার্ড দেখান। তবে স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচের পর উরুগুয়ের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর না হওয়ার অভিযোগ তুলে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম তাঁর সমালোচনা করেছিল।
এদিকে খেতাব ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনার পথ মোটেও সহজ ছিল না। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই উতরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। শেষ আটে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে লিওনেল স্কালোনির দল। এখনও দলের প্রধান ভরসা লিওনেল মেসি। তবে চার বছর আগের তুলনায় বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে অনেক বেশি ভারসাম্য। জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ এবং এনজো ফার্নান্দেজ নিয়মিত অবদান রাখায় আর্জেন্টিনা আর শুধুমাত্র মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের কৌশল বদলে নেওয়ার সক্ষমতাও দেখিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২২ বিশ্বজয়ের অভিজ্ঞতা দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। চাপের মুহূর্তেও তাঁরা শৃঙ্খলা বজায় রাখছে। পিছিয়ে পড়েও একাধিক ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের নজির গড়েছে। এবার সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য মেসিদের।
















