ফ্রান্স - ২ (এমবাপে, ডেম্বেলে)

মরক্কো - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি অপ্রতিরোধ্য। তিনি এমবাপে। নব্বই মিনিটের শেষ বাঁশি বাজতেই এক ছুটে মাঠে ফ্রান্সের অধিনায়ক। তারপর গ্যালারির দিকে তাকিয়ে দু'হাত শূন্যে ছুঁড়ে শিশুদের মতো লাফ কিলিয়ান এমবাপের। দেখে কে বলবে মাত্র কয়েক মিনিট আগেই বিশ্বকাপের ২০তম গোল করে ফেলেছেন! গোল্ডেন বুটের দৌড়েও ছুঁয়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচ জয়ের উচ্ছ্বাসকে ছাপিয়ে যান ফরাসি অধিনায়ক। পেনাল্টি মিসের পর অনবদ্য গোল। বিশ্বকাপে টিকে রইলেন দিদিয়ের দেশঁও। বিশ্বমঞ্চে অনবদ্য রেকর্ডের ফরাসি কোচের। ২৫ ম্যাচের মধ্যে ২০টি জয়।

৬ মিনিটের ঝড়। তাতেই লণ্ডভণ্ড মরক্কো। বস্টনে ফিরল ফরাসি বিপ্লব। অ্যাটলাস লায়ন্সদের ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে ফ্রান্স। টানা তৃতীয়বার সেমিফাইনালে। শেষ চারে স্পেন এবং বেলজিয়াম ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে অষ্টম গোল করে আবার লিও মেসিকে ছুঁলেন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের গোল সংখ্যা ২১। মাত্র এক গোলে পিছিয়ে ফরাসি তারকা। ২০ ম্যাচে ২০ গোল। তারমধ্যে ১২ গোল নকআউটে। সামগ্রিকভাবে মেসির থেকে পিছিয়ে থাকলেও রেকর্ড ফ্রান্সের অধিনায়কের। বিশ্বের প্রথম প্লেয়ার হিসেবে ৩০ বছর বয়সের আগে বিশ্বকাপে ২০ গোল করার রেকর্ড এমবাপের। 

মেসির সঙ্গে ভাগ্যে অদ্ভুত মিল ফরাসি তারকার। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেন। তারপর বার দুয়েক গোলের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন। মনে হচ্ছিল, দিনটা বোধহয় এমবাপের নয়। বিশ্বকাপে আরও একটি অঘটনের গন্ধ পাওয়ার আগেই, ফ্রান্সের তারকা বুঝিয়ে দিলেন 'ট্রাজিক নায়ক' হিসেবে বিশ্বমঞ্চ ছাড়তে রাজি নন তিনি। মরক্কোর তিনজন ডিফেন্ডার ঘিরে থাকা সত্ত্বেও বক্সের ঠিক মুখ থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে দুর্দান্ত গোল। ৬০ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ২-০ লে ব্লুজদের। জয় নিশ্চিত করেন উসমান ডেম্বেলে। বক্সের বাইরে থেকে ডানপায়ের দূরপাল্লার গড়ানো শটে গোল। বিশ্বকাপে পাঁচ গোল। বস্টনের এই স্টেডিয়ামেই কয়েকদিন আগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আর ঝুঁকি নেননি দেশঁ। ৭৭ মিনিটে তুলে নেন এমবাপেকে। 

এদিন দলে দুটি পরিবর্তন করেন দিদিয়ের দেশঁ। বাঁ দিকে ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় শুরু করেন ডিসায়ার ডুয়ে। আরেকটি ফোর্সড চেঞ্জ। চোট পাওয়া চুয়ামানির পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পান কোনে। অন্যদিকে মরক্কোয় চোটের জন্য ছিলেন না ইসমাইল সাইবেরি। তাঁর পরিবর্তে ফলস নাইনে খেলানোর কথা ছিল ব্রাহিম ডিয়াজকে। কিন্তু তাঁকে ডানদিকে রাখেন মরক্কোর কোচ। চেমসদিনে তালবিকে সামনে রেখে শুরু করেন। প্রথমার্ধ একপেশে। আক্রমণের পর আক্রমণ করে ফ্রান্স। কিন্তু গোলের নিচে অনবদ্য মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসির বনু। তিনটে নিশ্চিত গোল বাঁচান। ম্যাচের ৪ মিনিটে গোল লক্ষ্য করে প্রথম শট ফ্রান্সের। এমবাপের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসির বনু। যদিও বল বাইরেই যাচ্ছিল। তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফের সুযোগ। একই মুভ থেকে। এমবাপারে কর্নার থেকে ডেম্বেলের হেড বাঁচান বুনো। 

ম্যাচের ২৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। বক্সের মধ্যে এমবাপেকে ফাউল করেন মাজরাউ। প্রথমেই পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু মরক্কোর প্লেয়ারদের আবেদনে VAR নেওয়া হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলায়নি। তবে পেনাল্টি পাওয়া এবং নেওয়ার মাঝে কিছুটা সময় কেটে যাওয়ায় এমবাপের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে। ২৮ মিনিটে তাঁর দুর্বল শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান মরক্কোর গোলকিপার বনু। বিশ্বকাপে মেসির পর পেনাল্টি মিস এমবাপের। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে আবার গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু ডুয়ের শটে অনবদ্য সেভ মরক্কোর কিপারের। ম্যাচের অতিরিক্ত সময় ডিগনের দূরপাল্লার শট ক্রসপিসে লাগে। প্রথমার্ধে গোল লক্ষ্য করে ১৩টি শট ফ্রান্সের। সেখানে মাত্র একটি শট মরক্কোর। এটাই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বলে দিচ্ছে। 

ম্যাচের ৫৬ মিনিটে আবার সুযোগ পায় ফ্রান্স। অলিসের পাস থেকে বল পান এমবাপে। সামনে একা মরক্কোর কিপার বনু। কিন্তু বক্সের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে দেন এমবাপে। তবে শেষ হাসি হাসেন তিনিই। এমবাপের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় গোল শুধুই সময়ের অপেক্ষা। ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটা সহজ হয়ে যায়। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। বিশ্বমঞ্চে এর আগে ছয় সাক্ষাৎ হয় দুই দলের। তারমধ্যে চারটে জেতে ফ্রান্স। দুটো ড্র হয়। মরক্কো একটিও জেতেনি। সেই ধারাই অব্যাহত। পঞ্চম জয় ফ্রান্সের। দারুণ ছন্দে ছিল অ্যাটলাস লায়ন্সরা। শেষ ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত ছিল মরক্কো। শেষমেশ তাঁদের অশ্বমেধের ঘোড়া থামল। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুটা ভাল করে মরক্কো। পুরোপুরি রক্ষণাত্মক প্রথমার্ধের পর আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। কিন্তু একজন পজিটিভ স্ট্রাইকারের অভাব। গোল করতে ব্যর্থ। ফলে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি দেখল বিশ্ব। চার বছর আগেও দু'গোলে জিতেছিল ফ্রান্স।