আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রিকেট না ভিডিও গেম! ম্যাচের স্কোর শুনলে মনে এই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। ২০ ওভারে ৪১৭ রান। ৪৭টি ছক্কা। ম্যাচে মোট ৬৬। এমন আগে কখনও হয়নি। আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত ৩০০ রানের গণ্ডি পার করতে পারেনি কোনও দল। কিন্তু ভারিষ্ঠা চেলটেনহ্যাম প্রিমিয়ার টি-২০ এমন অদ্ভুত দৃষ্টান্তের সাক্ষী থাকল। ম্যাচটা ছিল ইংল্যান্ডের ডাম্বেলটন ক্রিকেট ক্লাব এবং হ্যাথারলি অ্যান্ড রেড্ডিংস সিসির মধ্যে। মঙ্গলবার ১৮৮ রানে ম্যাচ জেতে ডাম্বেলটন। স্কোরকার্ড দেখে ক্রিকেট ম্যাচের থেকেও বেশি ভিডিও গেম মনে হয়। এটাও সম্ভব! এক ম্যাচে ৬৪৬ রান। সে যে শ্রেণিরই হোক না কেন। চক্ষু চড়কগাছ ক্রিকেট ভক্তদের। 

ডাম্বেলটনের একজন ব্যাটার দ্বিশতরান করেন। তাও মাত্র ৫৪ বলে। ৪৭টি ছক্কা হাঁকায় ইংল্যান্ডের ক্লাব দল। দুই ওপেনার টমাস কেলি এবং ইওয়ান গেগ শুরুটা দারুণ করে। ৬.১ ওভারে ১১২ রান যোগ করে এই জুটি। ২৫ বলে ৬৪ রান করে আউট হন কেলি। এরপর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন গেগ। ৫৫ বলে ২০৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসে ছিল ১৩টি চার, ২৩টি ছয়। সপ্তম ওভারে নেমে শতরান করেন ডান হল্যান্ড। ৩৭ বলে ১২২ রান করেন। মাত্র ৪১ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। মারেন ৪টি চার এবং ১৬টি ছয়। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ বলে ২১১ রান যোগ করে গেগ এবং হল্যান্ড জুটি। দ্বিতীয়জন আউট হওয়ার সময় ৪০০ রানের গণ্ডি পেরোয়নি ডাম্বেলটন। শেষের ওভারগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নেন গেগ। ২৪ বলের মধ্যে ১৯ বলে নিজেই স্ট্রাইক নেন। দলকে ৪০০ রানে পৌঁছে দেন। ৪১৭ রানের মধ্যে ৩৭০ রান বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারিতে ওঠে। তারমধ্যে ছিল ২২টি চার, ৪৭টি ছয়।

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে হ্যাথারলি অ্যান্ড রেড্ডিংস সিসি। প্রথম থেকেই প্রয়োজনীয় রানরেট ২০ রানের বেশি ছিল। কিন্তু এই পাহাড়প্রমাণ রান তোলা কখনই সম্ভব নয়। ২২৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। ৪৮ বলে ১০৯ রান করেন ওপেনার হ্যারি ব্লুমফিল্ডস। ইনিংসে ছিল ৬টি চার, ১২টি ছয়। হ্যাথারলি ১৯টি ছয় মারে। দুই দল মিলিয়ে ছয়ের সংখ্যা ৬৬। ম্যাচের শেষ উইকেট তুলে নেন দ্বিশতরান করা গেগ। ১৮৮ রানে জেতে ডাম্বেলটন। কিন্তু এই ম্যাচের স্কোরবোর্ড টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করল।