আজকাল ওয়েবডেস্ক: সবে মাত্র ম্যাচ শেষ হয়েছে। অ্যাটলান্টা স্টেডিয়ামে তাঁর নামে উঠল স্লোগান। চোখে জল আটকাতে পারেননি ভোজিন্হা। কান্নায় ভেসে গেলেন। তবে এই চোখের জল খুশির। আনন্দাশ্রু। ৪০ বছরে সাধারণত ক্রীড়াবিদরা অবসরের পর রোজগারের বিকল্প রাস্তা খোঁজে। অনেকে কোচিংয়ের দিকে যান। খেলাধুলোর জগতে ৩৫ পেরোলেই 'বুড়ো' তকমা দিয়ে দেওয়া হয়। অবসরের প্রহর গোনা শুরু হয়। কিন্তু ৪০ বছরে বিশ্বকাপে অভিষেক! সচরাচর এমন উদাহরণ দেখা যায় না। শুধু অভিষেকেই নয়, তাঁর বীরত্বে আটকে যায় স্প্যানিশ আর্মাদা। তেকাঠির নিচে দাঁড়িয়ে করেন একের পর এক সেভ। মোট ৬-৭ টি সেভ। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বর্ষীয়ান গোলকিপার হিসেবে ক্লিনসিট রাখার রেকর্ড করলেন তিনি। ম্যাচটা স্পেন বনাম কেপ ভার্দের বদলে, স্পেন বনাম ভোজিন্হা বললেও ভুল হবে না। 

১৯৮৬ সালে কেপ ভার্দেতে জন্মগ্রহণ জোসিমার জোস ইভরা ডায়াসের। সেখান থেকে হয়ে গেলেন ভোজিন্হা। কিন্তু কীভাবে? এর পেছনেও রয়েছে একটি গল্প। বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব চাভেসে খেলেন তিনি। ২০১২ সালে যোগ দেন অ্যাঙ্গোলার ক্লাব প্রোগ্রেসোতে। সেখানেই বিপত্তি। আগে থেকেই সেই ক্লাবে জোসিমার নামে আরও একজন গোলকিপার ছিল। তাই জার্সিতে নিজের আসল নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই ডাকনাম 'ভোজিন্হা' ব্যবহার করা হয় জার্সিতে। সেই থেকেই এই নামে পরিচিত তিনি। ইংরেজিতে এই নামের অর্থ গলার স্বর। 

ছোটবেলায় মা-বাবাকে ছাড়াই বেড়ে ওঠা। দাদু-ঠাকুমাই তাঁর দেখভাল করতেন। ভোজিন্হা নামটাও তাঁদেরই দেওয়া। বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। কাজের জন্য মা বাইরে থাকতেন। তাই তাঁদের সঙ্গ খুব বেশি পাননি। কিন্তু এমন একটি আনন্দের দিনে গ্যালারিতে মাকে মিস করেন কেপ ভার্দের গোলকিপার। ভোজিন্হা জানান, ভিসার সমস্যা এবং বিশাল অর্থ ব্যয়ের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারেননি তাঁর মা। টিভির পর্দায় ছেলের খেলা দেখেন। তবে নিঃসন্দেহে গর্বিত হবেন তাঁর মা। ছোট্ট একটি দেশের বয়স্ক গোলকিপারকে গোটা দেশ চিনল ভোজিন্হা নামে। এই নাম আজ বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ারের সংখ্যা ৫০,০০০ থেকে বেড়ে ৫ মিলিয়ন।

যে দেশের জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লক্ষের একটু বেশি, ইউরোপ সেরাদের আটকে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল। বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বের ছাড়পত্র সংগ্রহ করার আগে হয়ত কেউ আফ্রিকার এই দেশের নামই জানত না। কিন্তু আজ সেটা ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘুরছে। আর ভোজিন্হা? কেপ ভার্দের হয়ে ৯১টি ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু ক্লাব ফুটবলে খেলেন পর্তুগালের একটি দ্বিতীয় ডিভিশনের অনামী ক্লাবে। ভারতীয় মুদ্রায় বার্ষিক বেতন ৪০ লক্ষ। সেখানে ভারতের দুই সেরা গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু এবং বিশাল কাইতের বেতন প্রায় দেড় থেকে দু'কোটির মধ্যে। যা রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া কেপ ভার্দের গোলকিপারের থেকে চার থেকে পাঁচগুণ বেশি। অথচ বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন দূর অস্ত, আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিততেই হিমশিম খায় ভারত। ক্রমতালিকায় এগিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে হলে তো কথাই নেই। কেপ ভার্দে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল অন্যান্য ফুটবল খেলিয়ে দেশগুলোকে।