ক্যালকাটা কাস্টমস-১ মোহনবাগান-০ 
(রাহুল সোরেন-পেনাল্টি)

আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজেদের ঘরের মাঠে কলকাতা কাস্টমসের কাছে হার মানতে হল মোহনবাগানকে। প্রিয় দলের এমন পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই হতাশ করেছে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের। মাত্র দু'দিন আগেই পালিত হয়েছে গর্বের মোহনবাগান দিবস। সেই অনুষ্ঠানে সম্মানিত হয়েছিলেন সুহেল ভাট। সেরা যুব ফুটবলারের সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাঠে নেমে সুহেল ভাট, ইস্টবেঙ্গল থেকে সদ্য যোগ দেওয়া সায়নি ব্যানার্জি কিংবা দীপক টাঙরিরা কেউই দলকে রক্ষা করতে পারলেন না। দীপক টাঙরি তো আবার সিনিয়র দলের সদস্য। খেলেছেন অ্যালেক্স সাজিও। 

ম্যাচের শুরু থেকেই কলকাতা কাস্টমসকে কোনও অংশে দুর্বল মনে হয়নি। বরং পুরো ম্যাচ জুড়েই তারা নিজেদের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত করেছে। মাঝমাঠে মোহনবাগানের আক্রমণ বারবার ভেঙে দিয়ে দ্রুত গতিতে পাল্টা আক্রমণে উঠে এসেছে কাস্টমস। সেই আক্রমণের চাপ সামলাতে গিয়ে বারবার বিপাকে পড়েছে সবুজ-মেরুন রক্ষণ।

অন্যদিকে, মোহনবাগানও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলিকে গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হয়। সুহেল ভাট গোল করতে পারেননি। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে কাস্টমস বল জালে জড়ালেও সেই গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। দীপেন্দু বিশ্বাসকে ফাউল করার অভিযোগে ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে মোহনবাগানের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন তিনি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলকাতা কাস্টমসের রিজার্ভ বেঞ্চ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লাল কার্ড বের করেন রেফারি।

তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি কাস্টমসের। ম্যাচের শেষদিকে মোহনবাগানের রোশন সিং বক্সের ভিতরে হাত দিয়ে বল স্পর্শ করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট-কিক থেকে কোনও ভুল না করে রাহুল সোরেন গোল করে কাস্টমসকে এগিয়ে দেন। ম্যাচের সেই সময়ে গোল খাওয়ার পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি মোহনবাগান।

এটি অবশ্য মোহনবাগানের সিনিয়র দল নয়, জুনিয়র দল। ভবিষ্যতে এই দল থেকেই একাধিক প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলার সিনিয়র দলে সুযোগ পাবেন। কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে অল্প বয়স থেকেই মাঠে লড়াইয়ের মানসিকতা, আগ্রাসন এবং জয়ের তাগিদ স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে। এই ম্যাচে সেই ক্ষুধা বা ঘুরে দেখানোর তাগিদ দেখাই গেল না মোহনবাগানের তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে।

এই হারের ফলে লিগে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে মোহনবাগানের ব্যবধান আরও বেড়ে গেল। লিগে অনেকটাই পিছিয়ে গেল সবুজ-মেরুন।