ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব - ১ (রানি)

শ্রীভূমি ফুটবল ক্লাব - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: জয়ের হ্যাটট্রিক। কন্যাশ্রী কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশন এ-তে ছুটছে ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের অশ্বমেধের ঘোড়া। রবিবারের পড়ন্ত বিকেলে শক্তিশালী শ্রীভূমি ফুটবল ক্লাবকে ১-০ গোলে হারাল ইউকেএসসি। ম্যাচের একমাত্র গোল রানি ভৌমিকের। তিনে তিন প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দলের। টানা তিন ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট ইউকেএসসির‌। অন্যদিকে পরপর দুই ম্যাচে হার শ্রীভূমির। ইস্টবেঙ্গলের পর ইউনাইটেডের কাছে। প্রশংসা প্রাপ্য বাংলার ফুটবলের নবজাতকদের। কন্যাশ্রী কাপে সবে দ্বিতীয় বছর। প্রিমিয়ার এ-তে প্রথম। এই অবস্থায় প্রথমবারের কন্যাশ্রী চ্যাম্পিয়ন এবং আইডব্লুএলে খেলা দলকে হারিয়ে দিল ইউনাইটেড। তাও আবার রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত তাঁদের বিরুদ্ধে যাওয়ার পরও। জঘন্য রেফারিং। ম্যাচটা দুই অর্ধে ভাগ করলে, প্রথমার্ধ ৫০-৫০, দ্বিতীয়ার্ধের সিংহভাগ ইউকেএসসির। প্রথম ৪৫ মিনিট লড়াই করে ইউনাইটেড। ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে জোড়া সুযোগ মিস না হলে গোলের ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত ইউনাইটেড। ম্যাচ শেষে সেলিব্রেশনে মাতে ইউকেএসসির মহিলা ব্রিগেড। 

চলতি কন্যাশ্রী কাপে প্রথমবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ইউকেএসসি। চাঁদনী স্পোর্টিং এবং দীপ্তি সংঘকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয়। প্রথম দুই ম্যাচে ছিল ২২ গোল। কিন্তু শ্রীভূমির বিরুদ্ধে বিরতিতে ম্যাচ গোলশূন্য শেষ হয়। প্রথমার্ধে খুব বেশি সুযোগ পায়নি ইউকেএসসি। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে একটি হাফ চান্স ছিল অ্যানির। কিন্তু ফিনিশ করতে পারেননি আগের ম্যাচে সাত গোল করা ফুটবলার। ম্যাচের ১৯ মিনিটে অ্যানির শট বক্সের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। বরং, প্রথমার্ধের শেষে এক গোলে পিছিয়ে পড়তে পারত ইউনাইটেড। কিন্তু একটি নিশ্চিত গোল বাঁচান গোলকিপার বীথিকা রায়। এদিন গোলের নীচে অনবদ্য তিনি। 

কন্যাশ্রী কাপের এ ডিভিশনের প্রথম দুটো ম্যাচ সল্টলেকের জিডি ব্লকের মাঠে খেলেছে ইউকেএসসি। কল্যাণীর মাঠের থেকে মাঠটি আংশিক ছোট । বিশেষ করে চওড়ায়। যার ফলে প্রথমদিকে মানিয়ে নিতে একটু সমস্যায় পড়ে ইউকেএসসির ফুটবলাররা। প্রথম দুই ম্যাচে যতটা উইং প্লে দেখা গিয়েছিল, এদিন সেটা চোখে পড়েনি। সংগঠিত ফুটবল খেলে প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দল। এদিন অনেক বেশি কমপ্যাক্ট ফুটবল খেলার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। মাঝমাঠ এবং রক্ষণ ভিত্তিক। কন্যাশ্রী কাপের প্রথম বছর চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীভূমি।‌ আইডব্লুএল খেলা দল। সুজাতা করের দলের বিরুদ্ধে বিরতিতে ক্লিনশিট রাখা যথেষ্ঠ কৃতিত্বের। 

এদিন দলে কোনও পরিবর্তন করেননি ইউকেএসসির কোচ। জেতার লক্ষ্য নিয়েই শুরু করেন। মাঝমাঠ দখল করে পাসিং ফুটবল খেলার চেষ্টা করে প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দল। অন্যদিকে ডায়রেক্ট ফুটবল খেলে শ্রীভূমি। বল পেলেই বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে সুজাতা মাহাতোর মাঠ ছাড়া শ্রীভূমির জন্য বড় ক্ষতি। তাঁর পরিবর্তে নামেন মমতা মাহাতো। পজেশনাল ফুটবল খেলার চেষ্টা করে ইউকেএসসি। কিন্তু বেশ কিছু মিস পাস ছিল।

অন্যদিকে ডান প্রান্ত দিয়ে অধিকাংশ আক্রমণে ওঠে শ্রীভূমি। নজর কাড়েন কারিশ্মা পুরুষোত্তম শিরভয়কর। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে সেরা সুযোগ শ্রীভূমির। একের বিরুদ্ধে এক সেভ বীথিকা রায়য়ের। কারিশ্মা পুরুষোত্তমের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান ইউকেএসসির গোলকিপার। এর আগেও একবার বক্সে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করেন অনিতা কুমারী। 

ফুটবলে একটি কথা প্রচলিত আছে। প্রথমার্ধ প্লেয়ারদের, দ্বিতীয়ার্ধ কোচের। এদিনের ম্যাচ তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। বিরতির পর পুরো বদলে যাওয়া ইউকেএসসি। পুরো মাঠ জুড়ে অনেক ছড়িয়ে ওপেন ফুটবল খেলে অ্যানি, কেই, তানিয়ারা। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে প্রথম সেট পিস পায় ইউকেএসসি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি আগ্রাসী ফুটবল। যার ফল পায়। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে এগিয়ে যায় ইউকেএসসি। দুর্দান্ত গোল রানি ভৌমিকের। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু পরিবর্ত ফুটবলার শাস্বতীর দূরপাল্লার শট বাইরে যায়। বিরতিতে অধিনায়ক পূজার পরিবর্তে তাঁকে নামান কোচ। তবে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একাধিক সিদ্ধান্ত ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে যায়। দুটো হ্যান্ডবল দেয়নি রেফারি ষষ্ঠী মনি সোরেন। কার্ডের সিদ্ধান্তও ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে যায়। 

নব্বই মিনিটের শেষে তিন পয়েন্টে পেয়ে খুশি ইউকেএসসির কোচ। প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, 'মেয়েদের জয়। খুব ভাল খেলেছে। কঠিন ম্যাচ ছিল। আমরা লড়াই করেছি। মূল লক্ষ্য ছিল গোল না খাওয়া। তাহলে গোল করার একটা সুযোগ থাকে। আমরা সেই লক্ষ্যে সফল হয়েছি। অবশ্যই খুব ভাল লাগছে। শ্রীভূমি শক্তিশালী দল। কন্যাশ্রী কাপ চ্যাম্পিয়ন। আইডব্লুএল খেলা দল। একাধিক জাতীয় দলের প্লেয়ার আছে। পুরোটাই মেয়েদের সাফল্য। প্রথমার্ধে কিছু ভুল হচ্ছিল। বিরতিতে সেটা শুধরে দিয়েছি।' রেফারিং নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ইউকেএসসি শিবির। প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, 'রেফারিও মানুষ। ভুল হতেই পারে। তবে আরও উন্নত মানের রেফারিং হওয়া উচিত ছিল। দুটো দলকেই ভুগতে হয়েছে।' আগের দিন সাত গোল করেছিলেন। এদিনও সুযোগ এসেছিল। কিন্তু গোল পাননি। তবে কঠিন জয়ে খুশি অ্যানি। গোল তুলে রাখলেন ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের জন্য।