আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৪০ কোটি ভারতবাসীর স্বপ্ন ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপে টিম ইন্ডিয়াকে খেলতে দেখা। কিন্তু এতদিন ধরে সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। এক একটা বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে স্বপ্নভঙ্গের পর ফুটবলপ্রেমীরা প্রশ্ন তোলেন, আরও বেশি করে গ্রাসরুট লেভেল থেকে ফুটবলার তুলে আনার। প্রশ্ন ওঠে ফিটনেস নিয়েও। আর ভারতের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নকে পূরণ করতেই এবার কলকাতায় অ্যাকাডেমি চালু করল ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব।

 প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই কলকাতা লিগের প্রথম ডিভিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইউকেএসসি। এবারে প্রিমিয়ার ডিভিশনেও তারা টানা নটি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে। কন্যাশ্রী কাপের দ্বিতীয় ডিভিশনেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে ইউকেএসসির মহিলা দল।

তবে এবার আরও বেশি করে স্থানীয় ফুটবলার তুলে আনতে চালু করা হল ইউকেএসসি অ্যাকাডেমি। সল্টলেকের জিডি গ্রাউন্ডে এই অ্যাকাডেমি চালু করা হয়েছে। শনিবার অ্যাকাডেমির গ্র্যান্ড লঞ্চে উপস্থিত ছিল ইউকেএসসি সিনিয়র দল, কোচ ইয়ান ল, টেকনো ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সত্যম রায়চৌধুরী, টেকনো ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর দেবদূত রায়চৌধুরী, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, সব্যসাচী দত্ত, পর্যটন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

সিনিয়র দলে কোচিংয়ের পাশাপাশি ইউকেএসসি অ্যাকাডেমির টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করবেন ইয়ান ল। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানালেন, বাচ্চাদের জন্য খুব ভাল সুযোগ। যাঁরা এই অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসবেন তাঁরা আমাদের সিনিয়র দলেও সুযোগ পাবেন। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা ফুটবলারদেরও অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আরও জানা গেল, ৬ বছর থেকে ফুটবলারদের অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৮ বছর পর্যন্ত অ্যাকাডেমিতে ভর্তি নেওয়া হবে। জিডি গ্রাউন্ডে অত্যাধুনিক মানের দুটি ড্রেসিংরুম চালু করা হয়েছে। ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি এবার থেকে কলকাতা লিগের ম্যাচও করানো হবে এই মাঠে। ইতিমধ্যেই, বাংলার নিয়ামক ফুটবল সংস্থার অনুমোদন মিলেছে। শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

দেবদূত রায়চৌধুরী জানালেন, আমরা অ্যাকাডেমি খোলার ওপর প্রাধান্য দিয়েছিলাম। একটা টিম বানানোর প্রায় দেড় বছর পর আমাদের অ্যাকাডেমি খোলা হল। আমরা চেয়েছিলাম শুধু অ্যাকাডেমি বলার জন্য অ্যাকাডেমি আমরা খুলব না। যদি অ্যাকাডেমি চালু করি, তাহলে তার প্রভাব যাতে ফুটবলে দেখা যায়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি এবং সর্বোপরি ভারতবাসীর যে স্বপ্ন আছে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ খেলা সেই স্বপ্নপূরণের একটা অংশ হওয়া বা কিছুটা হলেও উন্নতির চেষ্টা করা।'