মোহনবাগান - ০
মুম্বই সিটি এফসি - ১
কৌশিক রায়: কোচ যেই হোক না কেন, বাগানের মুম্বই কাঁটা ওপরানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সে হাবাস বা মলিনা কিংবা লোবেরা। ২০২৩-২৪ আইএসএল কাপ ফাইনালে যুবভারতীতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে হারতে হয়েছিল এই মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধেই। তারপর আইএসএলে ঘরের মাঠে ১৮ ম্যাচ টানা অপরাজিত ছিল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। তার মধ্যে ১৭টা জয় এবং ১টি ড্র। সেই ড্র-টাও এসেছে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে। আর বাগানের জয়রথও থামল সেই মুম্বইয়ের বিরুদ্ধেই। চলতি আইএসএলে এটাই বাগানের প্রথম হার।
বাগানের এই হার যে লিগ জমিয়ে দিল সেটা বলাই যায়। কিন্তু এদিন বাগানের হারের কারণ কী? মোহনবাগান লড়াই করল ঠিকই, কিন্তু তফাৎ হয়ে গেল সেই প্রাক্তন মোহনবাগানি জনি কাউকো এবং মুম্বইয়ের রক্ষণ। দুর্ধর্ষ গোল করার পর কীভাবে সেটা বাঁচাতে হয় সেটাই দেখিয়ে দিলেন নুনো রেইজ, আকাশ মিশ্ররা। ম্যাকলারেন সারা ম্যাচে নড়তে পারলেন না। রবসন নামার পর দু'একবার বাদে বাঁদিকে তাঁকে পুরো বোতলবন্দি করে রেখে দিলেন মুম্বই ডিফেন্ডাররা। এদিন টেবিল টপারদের হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে চলে এল মুম্বই সিটি, সৌজন্যে ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা নওফল। নিখুঁত প্লেসমেন্টে বিশাল কাইথকে পরাস্ত করলেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ প্রতি আক্রমণে খেলা হচ্ছিল। সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের কাছেও। কিন্তু তা গোলে কনভার্ট করতে পারেননি দিমিত্রি, কামিংস। তবে কাইথ না থাকলে এদিন হারের ব্যবধান আরও বাড়ত। প্রথম সুবর্ণ এসেছিল মুম্বইয়ের কাছেই। খেলার ২৩ মিনিটে সিটার মিস করেন ছাংতে। বাঁদিক থেকে পেরেরা দিয়াজের বাড়ানো দুর্দান্ত পাস ফাঁকায় পান তিনি। বিশাল কাইথ এগিয়ে এসে দুর্দান্ত সেভ করেন। ব্লক করা বল আকাশ মিশ্র হেড দিলেও মেহতাব সে যাত্রায় বাঁচান বাগানকে। মুম্বই লিড পায় ২৭ মিনিটে। লং বল ধরে শুভাশিসকে পরাস্ত করে ছাংতে বল দেন পেরেরা ডিয়াজকে। ডিয়াজের বাড়ানো বল জনি কাউকো থেকে নওফলের পায়ে যায়। ডান পায়ের ছোট্ট টোকায় সেকেন্ড পোস্টে ঠেলে দিয়ে মুম্বইকে এগিয়ে দেন তিনি। ৪৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল মুম্বই। নিচ থেকে বাড়ানো লং বল ধরে গতিতে শুভাশিসকে হেলায় পরাস্ত করে বেরিয়ে যান ছাংতে। বাঁ পায়ের ছোট্ট টোকায় বাড়ানো বল দুর্দান্ত ভাবে বাঁচান কাইথ। ফিরতি বলে অর্টিজের গোলার মতো শটও বাঁচিয়ে দেন তিনি।
বল পজিশন রেখে খেললেও গোলের মুখ খুলতে পারছিল না সবুজ মেরুন। হাফ টাইমের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি কিক পায় মোহনবাগান। দিমিত্রির শট অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। বিরতির পর কামিংসকে বসিয়ে রবসনকে নামিয়েছিলেন লোবেরা। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে একই ছন্দে খেলা শুরু করেছিল মুম্বই। বাগানের হাইলাইন ডিফেন্সের সামনে বারবার জায়গা পেয়ে যাচ্ছিলেন পেরেরা দিয়াজরা। দ্বিতীয়ার্ধে থাপাকে বসিয়ে দীপক টাংরিকে নামিয়েছিলেন লোবেরা। কিন্তু তাতে বিশেষ কিছু লাভ হয়নি। গোটা ম্যাচে ১৫টা কর্নার পেয়েছিল মোহনবাগান। যদিও তাতে লাভ হয়নি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের ভিতর সুযোগ পেয়েছিলেন রবসন। কিন্তু তিনি সোজা লাচেংপার হাতে মারেন। একদম শেষে ডি-বক্সের মুখে ফ্রি কিক পেলেও দিমি বাইরে মারেন। এদিনের জয়ে লিগ শীর্ষে চলে গেল মুম্বই, দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেল সবুজ মেরুন।
