আজকাল ওয়েবডেস্ক: যত কাণ্ড দক্ষিণ আফ্রিকায়। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডারবানে ২১৮ রান করেছিল ভারত। সেই ম্যাচে যুবরাজ সিং স্টুয়ার্ট ব্রডকে ছ' বলে ছ'টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। এতদিন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডারবানের সেই ২১৮-ই ছিল সর্বোচ্চ। 

সেঞ্চুরিয়নে ভারত ছাপিয়ে গেল ১৭ বছর আগের সেই স্কোরকেও। সেঞ্চুরিয়নে সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিলক বার্মা। তাঁর জন্যই ভারত পৌঁছে গেল ২১৯ রানে। এবার থেকে এটাই সর্বোচ্চ রান ভারতের। 

টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শূন্য রানে এক উইকেট চলে যায় ভারতের। সেখান থেকে যে ভারত ২১৯-এ পৌঁছবে তা কেউ কল্পনাও করেননি। একমাত্র তিলক বার্মাই বোধহয় অন্যরকম কিছু ভেবেছিলেন। তিন নম্বর পজিশনে নামেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু এদিন অধিনায়ক তিলককে পাঠান তিনে। তার পর চলল তিলকের দাপট। তিনি এবং অভিষেক শর্মা ১০৭ রান জোড়েন। অভিষেক নিজে ২৫ বলে ৫০ রান করেন। 
তিলককে তিনে পাঠিয়ে যে ভুল হয়নি, তার প্রমাণ দেন এই তরুণ ব্যাটার। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিলক দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ভারতীয় ব্যাটার যিনি সেঞ্চুরি হাঁকালেন। তাঁর আগে রয়েছেন কেবল যশস্বী জয়সওয়াল। 

অভিষেক শর্মা ফিরে যাওয়ার পরে সূর্যকুমার যাদবও (১) দ্রুত আউট হন। বেশিক্ষণ টেকেননি হার্দিক পাণ্ডিয়া (১৮)। ৪ উইকেটে ১৩২ হয়ে যায় ভারত। কিন্তু অন্যপ্রান্তে ছিলেন তিলক। তিনি শুরু করেন প্রলয়। কখনও সঙ্গী হিসেবে পান রিঙ্কু সিংকে, কখনও অভিষেক হওয়া রামনদীপকে। তিলক বার্মা থামবার বান্দা নন। 

৫৬ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিলক। ৮টি বাউন্ডারি ও ৭টি ছক্কা মারেন তিনি। নিজের ইনিংস প্রসঙ্গে তিলক বলেন, ''খুব খুশি আমি। দীর্ঘদিন ধরে এই মুহূর্তটারই অপেক্ষায় ছিলাম। চোট সারিয়ে ফিরে এসে সেঞ্চুরি করা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। শুরুতে চ্যালেঞ্জিং ছিল। পরের দিকে উইকেট সহজ হয়ে যায়। আমি আর অভিষেক চাপে ছিলাম। আমাদের পার্টনারশিপটার খুব দরকার ছিল। আমরা ২০০-২১০ রান করার কথা ভাবছিলাম। আমাদের স্পিনাররা ভাল বল করছে। ওদের হাতে রানের পুঁজি থাকলে আরও ভাল বল করবে। ম্যাচটা আমরা জিতব।'' 

ভারত করল পাহাড়প্রমাণ ২১৯ রান। ডারবানের যুবিকে সেঞ্চুরিয়নে মনে করালেন বাঁ হাতি তিলক।