আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিরুদ্ধে রুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ড্রেসিংরুমের ভিতরের অজানা ছবিটা তুলে ধরলেন সহকারী কোচ পল ক্লেমেন্ট।
একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ম্যাচ শুরুর আগের সেই মুহূর্তগুলো বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, ভেতরে তা আসলে আবেগের মিশেল। কেউ বল নিয়ে কিপ-আপে ব্যস্ত, কেউ হেডফোনে গান শুনছেন, কেউ স্ট্রেচিং করছেন, আবার কেউ নিঃশব্দে নিজের ভাবনায় ডুবে আছেন। পুরো পরিবেশে ভেসে বেড়ায় ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সুর—যেন কোনও বিজ্ঞাপনের শুটিং চলছে।
এই সময়টায় ড্রেসিংরুমের আবহ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। ম্যাচ শুরুর সময় যত ঘনিয়ে আসে, কোলাহল কমে আসে, গান বন্ধ হয়ে যায়, আর পুরো দল এক ধরনের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিতে ঢুকে পড়ে। এরপর শুরু হয় সম্মিলিত প্রার্থনা, যেখানে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কখনও অধিনায়ক বা অভিজ্ঞ কেউ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
ক্লেমেন্টের ভাষায়, “ম্যাচের আগে ও পরে সবাই প্রার্থনা করে।”
এই ঐতিহ্য দলটির ভেতরে ঐক্য ও বন্ধন আরও দৃঢ় করে বলে তিনি মনে করেন।
ক্লেমেন্ট আরও বলেন, তরুণরা অভিজ্ঞদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল, যা ড্রেসিংরুমে একটি শক্তিশালী ‘চেন অব কমান্ড’ তৈরি করে।
সহকারী কোচ পল ক্লেমেন্ট জানান, প্রধান কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির অভিজ্ঞতাও এই দলকে সামলাতে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি চেলসি, পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে তারকাখচিত ড্রেসিংরুম পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন।
ক্লেমেন্টের মতে, অ্যানচেলোত্তির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তিনি দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনতে জানেন। তাই বিশ্বকাপের আগে এই সমন্বিত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশই ব্রাজিল শিবিরের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, মাঠে নামার আগের সেই নীরব প্রার্থনা আর শৃঙ্খলিত আবহই যেন ব্রাজিলের নতুন স্বপ্নের ভিত গড়ে দিচ্ছে।















