আজকাল ওয়েবডেস্ক: আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন হ্যারি ব্রুক। পাওয়ার প্লের মধ্যে ৩৮ রানে ২ উইকেট ইংল্যান্ডের। ধারাভাষ্যকাররা ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করে দিলেন। বলেন, ইংল্যান্ডের আশা শেষ। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটার ব্রুক। একটি শতরানও রয়েছে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক আউট হওয়ার পর আর আশা নেই। কে জানত যাবতীয় অঙ্ক একাই বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন ২২ বছরের বাঁ হাতি ব্যাটার! তাঁকে কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই ধরেনি। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে চেনালেন ইংল্যান্ডের সেঞ্চুরিয়ান। নাম জেকব গ্রাহাম বেথেল। বয়স ২২ বছর ১৩৪ দিন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইংল্যান্ডে খেললেও, তাঁর জন্ম বার্বাডোজে। রাগবি স্কুল, হ্যারিসন কলেজে বেড়ে ওঠা। এদিন ওয়াংখেড়েতে কোটি কোটি ভারতীয়র হৃদয়ভঙ্গের কারণ হতে পারতেন এই ইংলিশ ব্যাটার।
কার্ডিফে কনকনে ঠাণ্ডার এক রাতে বিশ্বক্রিকেটে আবির্ভাব। তখন বয়স মাত্র ২০। ইংল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে অ্যাডাম জাম্পার এক ওভারে ২০ রান নেন। ১৯৪ রান তাড়া করতে নেমে লিয়াম লিভিংস্টোনের সঙ্গে ৪৭ বলে ৯০ রানের পার্টনারশিপ। সংশ্লিষ্ট ক্যারিবিয়ান সফরে অপরাজিত অর্ধশতরানের হ্যাটট্রিকে প্রথমবার নজর কাড়েন বেথেল। সঙ্গে সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে সুযোগ পান। শুরুতে পান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন নম্বর পজিশন। হতাশ করেননি। তিনটে টেস্টেই অর্ধশতরান করেন। তবে ভারতের বিরুদ্ধে একটি টেস্টে সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তবে সেই সেপ্টেম্বরেই আয়ারল্যান্ড সফরে বেথেলকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। তখন বয়স মাত্র ২১ বছর ৩২৯ দিন। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক।
একদিকে ভাবতে গেলে, এমন প্রতিভা পাওয়া উচিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। জন্মসূত্রে ক্যারিবিয়ানদের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার কথা। জন্ম এবং বেড়ে ওঠা বার্বাডোজে। রাগবি স্কুলে স্কলারশিপ পাওয়ার পর ১৩ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে আসেন। ওয়ারইউকশায়ারের ইউথ দলে যোগ দেন। ২০২১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে খেলতে শুরু করেন। একই বছর টি-২০ ক্রিকেটে হাতেখড়ি। ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। সেই দলের অঙ্গ ছিলেন বেথেল। কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪২ বলে ৮৮ রান করেন। পরের দুই বছর পারফরম্যান্স গ্রাফ শুধুই ওপরের দিকে ওঠে। ২০২৪ তাঁর ব্রেকথ্রু বছর। ওয়ারইউকশায়ার এবং বার্মিংহ্যাম ফোনেক্সের হয়ে শতরান ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকদের নজর কাড়ে। ইংল্যান্ডের সিনিয়র দলে ডাক পান। টি-২০ ফ্র্যাঞ্চাইজিদেরও নজরে পড়েন। মেলবোর্ড রেনেগেডস, পার্ল রয়্যালস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে সই করেন। মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার। এখনও পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে বিভিন্ন ভূমিকায় সাফল্য পেয়েছেন। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ক্ষমতা রাখেন। পাশাপাশি বাঁ হাতি স্পিনার এবং দারুণ ফিল্ডার।
এখনও পর্যন্ত ৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। মোট রান ৪৭৬। সর্বোচ্চ ১৫৪। গড় ৪৩.২৭। ২১টি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলেন। রান ৬০৩। সর্বোচ্চ ১১০। গড় ৩৩.৫০। টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে পর্যন্ত ৩০টি টি-২০ ম্যাচ খেলেন। মোট ৫৯২ রান ছিল। গড় ২৫.৭৩। সর্বোচ্চ রান ছিল অপরাজিত ৬২। এদিন ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নিজের ব্যক্তিগত রানকে ছাপিয়ে যান। ওয়াংখেড়েতে ৪৮ বলে ১০৫ রান করেন। মাত্র ৪৫ বলে পৌঁছে যান একশোয়। বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৭টি ছয়, ৮টি চার। স্ট্রাইক রেট ২১৮.৭৫। একাই দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁর এই ইনিংসের প্রত্যাশা হয়ত করেননি হ্যারি ব্রুক, জস বাটলাররাও। কার্যত হারা ম্যাচকে শেষ ওভার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখেন। শেষপর্যন্ত বৃহস্পতি রাতে ইংল্যান্ডকে জেতাতে না পেলেও, বিশ্বমঞ্চে নিজের নাম খোদাই করলেন জেকব বেথেল।
