আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্যাচ ফেললেন অভিষেক শর্মা। রান আউটের সুযোগ নষ্ট হল। ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে বিগ হিটিং ক্যারিবিয়ানরা তুললেন চার উইকেটে ১৯৫ রান। এরকম টেনশনের ম্যাচে প্রায় দুশোর কাছাকাছি রান তাড়া করা কিন্তু চাপের ব্যাপার। এই রান তাড়া করে ভারত কি সেমিফাইনালের টিকিট জোগাড় করতে পারবে? সময় এর উত্তর দেবে।
ইডেন গার্ডেন্স বহু ইতিহাসের সাক্ষী। রক্তের গতি বাড়িয়ে দেওয়া বহু ম্যাচ হয়েছে এই মাঠে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুপার এইটের সাক্ষাৎ কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালে পর্যবসিত হয়েছে। সেই ম্যাচে ভারত টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ইডেনের বাইশ গজ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাল হতে শুরু করে। সেই কথা মাথায় রেখেই সূর্যকুমার যাদব প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন।
হোপ–চেজের নতুন ওপেনিং জুটি শুরু করে সাবধানে। অর্শদীপ সিংয়ের সঙ্গে এদিন নতুন বলে বোলিং শুরু করেন হার্দিক পান্ডিয়া। ২ ওভারে অর্শদীপ খরচ করেন ১৩ রান। হার্দিক এক ওভারে দিলেন ১০ রান।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারে নিজের প্রথম ওভারে এসেই সুযোগ তৈরি করেন বুমরাহ। তাঁর স্লোয়ারে কাভারের উপরে ক্যাচ দেন রোস্টন চেজ। সহজ সেই ক্যাচ ছেড়ে দেন অভিষেক। ১৪ রানে জীবন ফিরে পান চেজ। এই ধরনের বড় ম্যাচে ক্যাচ ফেলা মানে কিন্তু ম্যাচও ফেলে আসা। শেষমেশ কী হবে, তা বলবে সময়।
শনিবার প্রেস কনাফারেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন স্যামি বলেছিলেন, তাঁর যোদ্ধারা তৈরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৈরি হয়েই খেলতে নেমেছে তা বোঝাই যাচ্ছিল। অন্যদিকে ভারতকে কিন্তু কিছুটা অগোছালো লাগছিল। বড় ম্যাচের চাপ কি অনুভব করতে শুরু করে দিয়েছিলেন ভারতের সেনানীরা?
৬৮ রানে ক্যারিবিয়ানদের প্রথম উইকেট পড়ে। ৩৩ বলে ৩২ রান করে ফেরেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। শুরু থেকেই হোপকে দেখে মনে হয়নি তিনি ছন্দে রয়েছেন। সাবলীলভাবে খেলতে পারছিলেন না। শাই হোপ ৩২ রানে বোল্ড হন। বরুণ চক্রবর্তী শুরুর ধাক্কা দেন। তার পরেই দেখা যায় ভারতের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর কুলদীপ যাদবকে কিছু একটা নির্দেশ দিচ্ছেন। শিমরন হেটমায়ারের জন্যই সেই পরামর্শ? কিছুক্ষণ বাদেই সেটা পরিষ্কার হল।
হেটমায়ারকে বিপজ্জনক হতে দেবেন না সূর্যরা, এটা জানাই ছিল। ভয়ঙ্কর হেটমায়ারকে দ্রুত ফেরানোর জন্য সূর্যকুমার বল তুলে দেন বুমরাহর হাতে। বুমরার কাজই ছিল হেটমায়ারের উইকেটটা নেওয়া। সেটা তিনি করেছেন। বুমরাহর বলে সঞ্জু স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হেটমায়ার (২৭)। মাত্র ১২ বলে ২৭ রান করেন তিনি।
সেই ওভারের পঞ্চম বলে ২৫ বলে ৪০ রান করে সূর্যর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন চেজ। ছন্দে থাকা রাদারফোর্ড রান পেলেন না এদিনও। পাণ্ডিয়ার বলে স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রাদারফোর্ড (১৪)। সেই সময়ে মনে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় রান করতে দেবে না ভারতীয় বোলাররা। কিন্তু তার পরেই চিত্রনাট্যে ভোলবদল। অর্শদীপের এক ওভারে আসে ২৪ রান। ১৬ ওভারে ক্যারিবিয়ান পৌঁছে যায় চার উইকেটে ১৪৯ রানে। হোল্ডার বড় শট খেলতে শুরু করেন। সেই সঙ্গে রোভম্যান পাওয়েলও মারমুখী ব্যাটিং করতে থাকেন। তাঁর ক্যাচও ফেলেন অভিষেক। তিন-তিনটি ক্যাচ পড়ল। রান আউটের সুযোগ নষ্ট করলেন বরুণ চক্রবর্তী।
এই দুই ক্যারিবিয়ান ব্যাটারের জন্যই ২০ ওভারের শেষে ক্যারাবিয়ানরা ১৯৫ রান করতে সক্ষম হল। পরে ব্যাট করে ১৯৬ কিন্তু অনেক রান। উইকেট পড়ে গেলে চাপ অনুভব করতে শুরু করে দেন ব্যাটাররা। ৩৫ বলে ৭৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে জেসন হোল্ডার (অপরাজিত ৩৭) ও রোভম্যান পাওয়েল (অপরাজিত ৩৪) কিন্তু ভারতের জন্য প্রশ্নপত্র কঠিন করে দিলেন, একথা বললেও অত্যুক্তি করা হবে না।
