মধ্য এশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি চুক্তির খবরে টানা চতুর্থ দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী থাকল ভারতীয় শেয়ার বাজার।
2
14
বুধবার সেনসেক্স ও নিফটি উভয় সূচকই শক্তিশালী অবস্থানে লেনদেন করছে। গত চারটি ট্রেডিং সেশনে সেনসেক্স ৩,২০০ পয়েন্টেরও বেশি বেড়েছে, আর নিফটি ৫০ প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
3
14
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্য এশিয়ার সংঘাতের অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।
4
14
আগামী শুক্রবার এই শান্তি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ইরানের তেল সরবরাহ শুরু হতে পারে, যা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর চাপ কমাবে।
5
14
ইতিমধ্যেই এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম, যা যুদ্ধের চরম পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তা নেমে এসেছে ৮০ ডলারের নিচে।
6
14
তেলের এই মূল্যপতন ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
7
14
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেন্ট ক্রুড যদি ৭৫ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় কমবে, মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস পাবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বাভাবিকতা ফিরবে।
8
14
এর ফলে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতিগত পদক্ষেপ কার্যকর করতে সুবিধা হবে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতিতে ভারতীয় অর্থনীতিতে একাধিক সম্পদশ্রেণিতে র্যা লি দেখা যেতে পারে।
9
14
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতীয় মুদ্রা ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী হতে পারে, ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ফলন কমতে পারে এবং সুদের হারেও স্বস্তি আসতে পারে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা পেতে পারে ভোগ্যপণ্য বা কনজাম্পশন-নির্ভর খাত।
10
14
কর্পোরেট আয়ের ক্ষেত্রেও আশাবাদী দিক সামনে আসছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির দাম বেশি থাকার মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ প্রান্তিকে নিফটি ৫০ সংস্থাগুলির মুনাফা বছরে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
11
14
তেলের দাম আরও কম থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে নিফটির আয় প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
12
14
এই ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে এমকে গ্লোবাল মার্চ ২০২৭-এর জন্য নিফটি ৫০-এর লক্ষ্যমাত্রা ২৯,০০০ পয়েন্টেই বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক সংশোধনের ফলে বাজারের মূল্যায়ন এখন তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় স্তরে রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
13
14
বিশেষজ্ঞদের মতে, শান্তি চুক্তি কার্যকর হলে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী থাকলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে অয়েল মার্কেটিং কোম্পানি, পরিবহণ সংস্থা, সিমেন্ট নির্মাতা, বাছাই করা ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসি।
14
14
বিশেষ করে লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর মতো কোম্পানিগুলি নতুন প্রকল্পের সুযোগ থেকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, ভবিষ্যতে যদি আবার তেলের দাম বেড়ে যায় বা মধ্য এশিয়াতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়, তাহলে বাজারে অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে।