আজকাল ওয়েবডেস্ক: দলে জায়গা হারিয়েছিলেন। রোহিত শর্মা বলেছিলেন, ভাই দুঃখী হোস না। বড় টুর্নামেন্টে ঠিক সুযোগ আসবে। 

সুযোগ এল সঞ্জু স্যামসনের সামনে। আর তিনটি ইনিংস তাঁকে প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ বানিয়ে দিল। ইডেনে ৯৭, ওয়াংখেড়েতে ৮৯ এবং আহমেদাবাদের ফাইনালে ৮৯ সঞ্জু স্যামসনকে বানিয়ে দিল বিশ্বকাপের সেরা প্লেয়ার। ৫ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৩২১ রান। 

কিন্তু দুঃসময় কাটিয়ে তিনি ফিরলেন কীভাবে? খেলার শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সঞ্জু স্যামসন আলাদা করে শচীন তেণ্ডুলকরের কথা উল্লেখ করলেন। ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ে মাস্টার ব্লাস্টারের পরামর্শ পেয়েছিলেন সঞ্জু। অজি ভূমে তিনি অবশ্য ভারতের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে শচীন ফোন করে সঞ্জুর খবরাখবর নিয়েছিলেন। ভারতের তারকা ওপেনার বলছেন, ''শচীন পাজির মতো কেউ আমাকে পরামর্শ দিচ্ছেন, এর থেকে ভাল আর কী হতে পারে! আর কীইবা চাওয়ার থাকতে পারে। যারা আমাকে সমর্থন করেছেন, আমি তাদের প্রত্যেকের কাছেই কৃতজ্ঞ।'' 

গতবছরটা সঞ্জু স্যামসনের জন্য ভাল যায়নি। একই ক্যালেন্ডার ইয়ারে তিনটি সেঞ্চুরি করলেও এশিয়া কাপে শুভমান গিল তাঁর জায়গা কেড়ে নিয়েছিলেন। ব্যাটিং অর্ডারে নীচের দিকে নামতে হয়েছিল সঞ্জুকে। ব্যাটিং অর্ডারে নীচের দিকে  সঞ্জু ব্যাট করেন না। ফলে তাঁকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে সফল হননি সঞ্জু। সমালোচিত হয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে সঞ্জু ধরা দিলেন অন্য অবতারে। সবাইকে অবাক করে দিলেন তিনি। 
নিজের এই জার্নির দিকে তাকিয়ে সঞ্জু বলছেন, ''সবটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। ২০২৪ বিশ্বকাপে আমি খেলিনি। স্বপ্ন দেখতাম একদিন আমিও খেলব। কঠিন পরিশ্রম করতে শুরু করেছিলাম। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পরে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু ঈশ্বর আমার জন্য অন্য কোনও চিত্রনাট্য হয়তো লিখে রেখেছিলেন। স্বপ্ন দেখার মতো সাহসী হওয়ার পুরস্কার পেলাম আমি।'' 

ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, চাপের মুখে হেরে যাব না, এই মনোভাব এবং অতি অবশ্যই শচীন তেণ্ডুলকরের পরামর্শে বদলে যান সঞ্জু।