আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বের গ্রুপ চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার মহম্মদ আমির।

সম্প্রতি ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা-কে ‘স্লগার’ বলার পর এবার নয়া ভবিষ্যদ্বাণী করে বসলেন তিনি। জানালেন, ভারত সেমিফাইনালে উঠতে পারবে না। এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মহম্মদ আমির আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ চার নিয়ে মুখ খোলেন।

সুপার এইটের প্রতিটি গ্রুপ থেকে কোন দুটি দল শেষ চারে উঠবে এমন প্রশ্নের জবাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেন মহম্মদ আমির। ভারতের গ্রুপ থেকে তিনি সমর্থন করছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

প্রাক্তন পেসারের এই মন্তব্যে অনুষ্ঠানের সঞ্চালকসহ অনেকেই বিস্মিত হন। গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক মাধ্যমে আমিরের একাধিক মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

অভিষেক শর্মাকে নিয়ে বিতর্কের পর এবার ভারতের বিদায়ের ভবিষ্যদ্বাণী করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমির বলেন, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছাড়া প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ভারতের ব্যাটিং ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে খেলছে, তারা যেকোনও দলকে হারাতে সক্ষম।’

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে জিম্বাবোয়ে। তবে এই গ্রুপ থেকে মাত্র দুটি দলই সেমিফাইনালে উঠবে। ফলে প্রতিযোগিতা যে অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে, তা বলাই যায়।

রবিবার ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের পর বাঁ হাতি ওপেনারকে ‘স্লগার’ তকমা দেন পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা। বিশ্বকাপে একটানা ব্যর্থতার পর অভিষেকের পারফরম্যান্সকে আতশ কাঁচের নীচে রাখা হয়েছে।

পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবের সঙ্গে তুলনা টানেন আমির। পিএসএলের শুরুতে হিমশিম খান পাক ব্যাটার। তাঁর দাবি, উচ্চ মানের বোলাররা তরুণ ব্যাটারদের দুর্বলতা খুঁজে বের করে ফেলে।

আমির বলেন, ‘কয়েকবছর আগে সাইম আয়ুব যখন পিএসএল খেলতে এসেছিল, ওরও একই সমস্যা ছিল। ও নতুন ছিল, এবং চোখ বন্ধ করে ব্যাট চালাত। কেউ ওর দুর্বলতা ধরতে পারেনি কারণ অধিকাংশ শট লেগ সাইডে ছিল। কিন্তু তৃতীয় এবং চতুর্থ স্ট্যাম্প বরাবর বল করলে, ও হিমশিম খায়। শেষ দুই ম্যাচে অফ সাইডে খেলতে গিয়ে আউট হয়েছে। অফ সাইডে খেলা উন্নতি না করলে, বেশিদূর এগোতে পারবে না। ভাল বোলাররা সবসময় ব্যাটারদের দুর্বলতা পরোখ করে। নিজের পছন্দের জায়গা থেকে বের করে আনে। একই অবস্থা অভিষেকের। ও সব বল একই জায়গায় চায় যাতে ও মারতে পারে। কিন্তু বড় মঞ্চে বা একদিনের ক্রিকেটে প্রত্যেক বলে মারা যায় না। সলমন আঘা এবং আরিয়ান দত্ত একইভাবে ওকে আউট করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়না দেখিয়ে দেয়।’

ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের আশা, সুপার এইট থেকেই নিজের ছন্দ ফিরে পাবেন অভিষেক। প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লজ্জার রেকর্ড অভিষেক শর্মার। বিশ্বমঞ্চে শূন্যের হ্যাটট্রিক।

প্রথম রানের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শূন্যের পর বুধবার আহমেদাবাদে নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও খাতা খুলতে ব্যর্থ। আবারও শূন্যতে ফেরেন।

প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন। আরিয়ান দত্তের বলে পুল মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পে লাগে। এদিন ভাগ্য বলদাতে নিজের জার্সির বদলে মহম্মদ সিরাজের জার্সি পরে নামেন অভিষেক। কিন্তু ভাগ্য ফেরাতে পারেননি।

তৃতীয় শূন্য করার সঙ্গে সঙ্গেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে ফেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শূন্যের রেকর্ড অভিষেকের। আশিস নেহরার সঙ্গে যৌথভাবে এই জায়গায় ভারতের বাঁ হাতি ওপেনার।

রবিবার সুপার এইট পর্ব শুরু ভারতের। প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি টিম ইন্ডিয়া। সেই ম্যাচেই অভিষেকের ব্যাট থেকে রান চায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।