আজকাল ওয়েবডেস্ক: যশপ্রীত বুমরার মাস্টারক্লাসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুশো রানের নীচে আটকে রাখল ভারত। নির্ধারিত ওভারে শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়াদের রান ১৮৭। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দুরন্ত বুমরা। ৪ ওভারে ১৫ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। ডেভিড মিলার (৬৩) এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (৪৫) ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও ব্যাটার রান পায়নি। শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন ট্রিস্টান স্ট্যাবস (৪৪)। দুই স্পেলে বল করেন বুমরা। প্রথমে তুলে নেন জোড়া উইকেট। পরে এক উইকেট। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ ভারতের সামনে।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আইডেন মার্করাম। ভেবেছিলেন বড় ম্যাচে ভারতের সামনে বড়সড় টার্গেট সেট করবেন। কিন্তু শুরুতেই বিপাকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারায়। ঘরের মাঠে দুরন্ত বুমরা। নিজের প্রথম ওভারেই কুইন্টন ডি কককে ফেরান। চার মারার পরের বলে বোল্ড প্রোটিয়া ওপেনার। ৭ বলে ৬ রান করে ফেরেন। দক্ষিণ আফ্রিকার টপ থ্রি ব্যর্থ। ডবল অক্ষরে পৌঁছতে পারেনি। রান পাননি মার্করামও। ৪ রানে অর্শদীপের বলে হার্দিকের হাতে ধরা পড়েন। বুমরাকে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করলেও ওভারের শেষ বলে আউট হন রায়ান রিকেলটন (৭)। দুর্দান্ত বল। স্লোয়ার বলে আউট হন। বল বুঝতেই পারেননি প্রোটিয়া ব্যাটার। মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সময় মনে হয়েছিল, দেড়শো রানে পৌঁছতে কালঘাম ছোটাতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। কিন্তু টিকে যান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এবং ডেভিড মিলার।
আহমেদাবাদে ডাহা ব্যর্থ স্পিনাররা। চতুর্থ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীকে আনেন সূর্য। কিন্তু উইকেট পেতে নিজের শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় রহস্য স্পিনারকে। যদিও শেষপর্যন্ত সেট ব্যাটার ডেভিড মিলারকে আউট করেন। পাওয়ার প্লের শেষে ৩ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল ৪১। ব্রেভিস এবং মিলারের ব্যাটে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০ ওভারের শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়াদের রান ছিল ৮৪। চতুর্থ উইকেটে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এবং ডেভিড মিলারের মধ্যে ৯৭ রানের পার্টনারশিপ। এই জুটি ব্যাট করার সময় মনে হয়েছিল, অনায়াসেই ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে প্রোটিয়ারা। কিন্তু ৩টি চার এবং ছয়ের সাহায্যে ২৯ বলে ৪৫ রানে আউট হন ব্রেভিস। বেবি এবি আউট হওয়ার পর রানের গতি কমে যায়। ২৬ বলে ৫০ রান সম্পূর্ণ করেন মিলার। প্রথম তিন ওভারে মার খেলেও বাঁ হাতি ব্যাটারকে ফেরান বরুণ। ৩৫ বলে ৬৩ রান করে আউট হন মিলার। বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৩টি ছয়, ৭টি চার। নেতৃত্বে নজর কাড়েন সূর্যকুমার। শেষপর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেই বোলিংয়ে ফেরান বুমরা এবং অর্শদীপকে। কিন্তু হার্দিকের শেষ দুই বলে জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেন স্টাবস। ৩টি ছয়, ১টি চারের সাহায্যে ২৪ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। জোড়া উইকেট অর্শদীপ সিংয়ের।
