আজকাল ওয়েবডেস্ক: এই বছর আবারও ভারত–পাকিস্তান মহারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এশিয়ার অন্যতম বড় ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমসে মুখোমুখি হতে পারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত এবং পাকিস্তান।

চলতি বছর সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে জাপানের আইচি–নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা। সেখানে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

শোনা যাচ্ছে, এশিয়ান গেমসে ভারত পুরুষ ও মহিলা উভয় বিভাগেই পূর্ণ শক্তির দল পাঠাতে চলেছে। ২০২৬ সালে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চতুর্থবারের জন্য।

যদিও এশিয়ায় এই খেলাটির জনপ্রিয়তা বিপুল। প্রথমবার পদক ইভেন্ট হিসেবে ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয় গুয়াংঝুতে ২০১০ সালের এশিয়ান গেমসে। পরে ২০১৪ সালে ইনচনেও ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

২০১৮ সালে জাকার্তায় ক্রিকেট বাদ পড়লেও ২০২২ সালে ফেরানো হয় আবার এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদাসহ কামব্যাক ঘটে ক্রিকেটের। প্রতিটি আসরেই পুরুষ ও মহিলা বিভাগে আলাদা প্রতিযোগিতা হয়েছে এবং সব ক্ষেত্রেই টি–টোয়েন্টি ফরম্যাট ব্যবহৃত হয়েছে।

ভারত এবার দুই বিভাগেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নেবে। ২০২৩ সালে হাংঝৌতে পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই সোনা জিতেছিল ভারত।

পুরুষ বিভাগে আফগানিস্তান রুপো এবং মহিলা বিভাগে শ্রীলঙ্কা রুপো জেতে। আর বাংলাদেশ দুই বিভাগেই ব্রোঞ্জ পায়। এর আগে ২০১০ সালে পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশ এবং মহিলা বিভাগে পাকিস্তান সোনা জিতেছিল।

২০১৪ সালে পুরুষ বিভাগে শ্রীলঙ্কা ও মহিলা বিভাগে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়। এবার এশিয়ান গেমসে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হলে তা এশিয়ান গেমসের জনপ্রিয়তাকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।

কারণ, এই ম্যাচ শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং আবেগ ও উত্তেজনার শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ভারতের মহিলা দল বর্তমানে টি–টোয়েন্টিতে অনেকটাই শক্তিশালী।

পুরুষ দলও বহুজাতিক নকআউট টুর্নামেন্টে নিজেদের দক্ষতা দেখাতে অভ্যস্ত। জাপানের পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই হবে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

এশিয়ান গেমসকে ভবিষ্যতের আরও বড় মঞ্চের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলস সামার অলিম্পিক গেমসে ক্রিকেটের ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর প্রথমবার।

ফলে আইচি–নাগোয়া এশিয়ান গেমস শুধু পদকের লড়াই নয়, অলিম্পিকের অন্যতম প্রস্তুতির মঞ্চও হয়ে উঠতে পারে।