আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়েতে ৪৯৯ রান! বদলে যাচ্ছে ক্রিকেটের সমীকরণ। শেষ কবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে এক ম্যাচে ৫০০ রান হয়েছে মনে পড়ে না। এটা জানতে পরিসংখ্যান ঘাটতে হবে। একসময় একদিনের ক্রিকেটে ২৫০ রান নিরাপদ মনে করা হত। এই রান করে অনায়াসে জিতে যেত দলগুলো। আর ৩০০ রান মানে নিশ্চিত জয়। কিন্তু আইপিএলের অন্তর্ভুক্তি ক্রিকেটকে বদলে দিয়েছে। আমূল পরির্বতন হয়েছে টি-২০ ক্রিকেটে। ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের অভিষেক বছরে ফাইনালে ১৫৭ রান করে জিতেছিল এমএস ধোনির ভারত। কিন্তু বর্তমানে এই রান কিছুই না। ব্যাট করতে নামার আগেই মানসিকভাবে জিতে যায় পরে ব্যাটিং করা দল। কয়েকদিন আগে ইডেনে ১৯৫ রান তাড়া করতে নেমে ৪ বল বাকি থাকতেই জিতে যায় টিম ইন্ডিয়া। 

আইপিএল থেকে বদলে গিয়েছে প্লেয়ারদের মানসিকতা। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে ক্রিকেটাররা। প্রথম বল থেকেই মারার প্রবণতা। মূলত টি-২০ ক্রিকেটের সঙ্গে বিনোদন জড়িয়ে থাকে। তাই সাধারণত স্পোর্টিং পিচের নির্দেশ দেওয়া হয় পিচ কিউরেটরদের। টি-২০ ম্যাচে তিনবার এক ইনিংসে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়েছে। একবার ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। দু'বার জিম্বাবোয়ে বনাম গ্যাম্বিয়া এবং নেপাল বনাম মঙ্গোলিয়া ম্যাচে। তিনবারই জিতেছে ৩০০ রান করা দল। টি-২০ তে মোট ২৬ বার ২৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়েছে দলগুলো। তারমধ্যে ২৫ বার জিতেছে প্রথমে ব্যাট করা দল। মাত্র একবার আড়াইশোর বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে সেঞ্চুরিয়ানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে ২৫৮ রান করেও হারতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এদিন মুম্বইয়ে এই পরিসংখ্যান বদলে যেতে পারত। ম্যাচ শেষে সঞ্জু স্যামসনের মন্তব্য থেকে যা পরিষ্কার।

ইডেনের পর ওয়াংখেড়ে। পরপর ম্যাচের সেরা। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এসে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ২৫৩ রান করার পরও জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না তাঁরা। সঞ্জু বলেন, 'ওয়াংখেড়েতে আমরা প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি। এখানে রান তাড়া করে জেতা সহজ। ইনিংসে ব্রেকে আমরা আলোচনা করছিলাম এই মাঠে ২৫০ রান তাড়া করে জেতা সম্ভব। এখানে এই রানও নিরাপদ নয়। কৃতিত্ব প্রাপ্য যশপ্রীত বুমরার।‌ ডেথ ওভারে এমন বোলিং না করলে আজ আমরা হয়ত জিততে পারতাম না।' ফাইনালে ওঠার পর একই কথা বলেন অক্ষর প্যাটেল। ২৫৩ রান করেও জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না। টি-২০ তে শুধুমাত্র একজন ব্যাটার বদলে দিতে পারে ম্যাচের রং। ঠিক এদিন যেমন করতে চলেছিলেন জেকব বেথেল। শেষ বল পর্যন্ত তিনি টিকে থাকলে কী হত বলা মুশকিল। তবে এদিনের ম্যাচ অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে দিল। যশপ্রীত বুমরা, হার্দিক পাণ্ডিয়ার দুই-একটা ওভার বাদে দাপট শুধুই ব্যাটারদের। তাহলে কি ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে শুধুই ব্যাটারদের? টি-২০ ক্রিকেটে অস্তিত্ব সংকটে বোলাররা?