আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিশ্চিত হতেই কলম্বোগামী বিমানের ভাড়ায় বাজারে তীব্র প্রভাব পড়েছে। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের সাক্ষী থাকতে ক্রিকেটপ্রেমীরা দ্রুত ফ্লাইট বুক করতে শুরু করেছেন।

মুহূর্তের মধ্যেই মুম্বই–কলম্বো রুটে বিমানের ভাড়া হু হু করে বাড়তে থাকে। ম্যাচ হবে ঘোষণা হওয়ার পর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রাউন্ড ট্রিপের ভাড়া একনাগাড়ে বাড়তে থাকে।

বর্তমানে মুম্বই–কলম্বো–মুম্বই রাউন্ড ট্রিপ ফ্লাইটের ভাড়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠতেই এই মূল্যবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে।

ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫.৪৫ মিনিটে মুম্বই থেকে কলম্বো যাওয়ার ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের দাম ৩০,৪১৮ টাকারও বেশি।

একই দিনে পরবর্তী ফ্লাইটগুলির ভাড়া ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ৪৮ হাজার টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। ফেরার টিকিটের ক্ষেত্রেও একই ছবি। কলম্বো থেকে মুম্বই ফেরার ফ্লাইটগুলির ভাড়া বেড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হয়েছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টোর পর কলম্বোর উদ্দেশে ইন্ডিগোর যে ফ্লাইটগুলি দিনের শুরুতে উপলব্ধ ছিল, সেগুলি ইতিমধ্যেই পুরোপুরি বিক্রি হয়ে গেছে।

এপ্রিল মাসে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুম্বই থেকে কলম্বো যাওয়ার একমুখী ইন্ডিগো ফ্লাইটের ভাড়া রয়েছে ১০ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে আর রিটার্ন টিকিটের দাম ১৩ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। 

১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ না হলে আইসিসির ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার ক্ষতি হত। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১,৫৭৫ কোটি ৬১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। এই ক্ষতি এড়িয়ে যাওয়ায় স্বস্তিতে ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলিও।

কারণ, আইসিসি যদি এই বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হত, তাহলে সদস্য দেশগুলিও অনেক কম টাকা পেত। উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট এবং আইসিসির মধ্যে দফায় দফায় আলোচনার পরই পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে সম্মত হয়।

পাকিস্তান সরকার সোমবার রাতে বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘বিভিন্ন আলোচনার নির্যাস এবং বন্ধু দেশগুলির অনুরোধের পর পাকিস্তান সরকার সে দেশের ক্রিকেট দলকে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে।

পাশাপাশি ক্রিকেটের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে ক্রিকেটকে আরও বেশি করে জনপ্রিয় করে তোলার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

আবার এটাও ঘটনা, সোমবার রাতে বিসিবি–র তরফেও প্রথমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানকে ভারত–ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো হয়।

পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ না খেলার কারণ ছিল, বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বহিষ্কার করা। এদিকে, আইসিসিও সোমবার রাতে বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশকে কোনও আর্থিক, ক্রীড়াভিত্তিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না।’

বৈঠকে হওয়া আলোচনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০৩১ এর মধ্যে বাংলাদেশে একটি আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ একদিনের বিশ্বকাপের আগেই এই প্রতিযোগিতা হবে।