আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্যানিং মহকুমার মাতলা নদীর চর দখল করে তৈরি হওয়া বিতর্কিত ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’-কে ঘিরে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। অবৈধভাবে নদীর চর দখল করে কমার্শিয়াল নির্মাণের অভিযোগে ক্যাফেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন ক্যানিংয়ের মহকুমা শাসক।

সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নির্মাণ সরিয়ে না ফেললে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলা হবে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মাতলা নদীর চর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি দখল এবং নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির দাবি ছিল, নদীর চর দখল করে তৈরি হওয়া একাধিক অবৈধ নির্মাণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।

এর প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপরেও। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে প্রশাসন। তদন্তে উঠে আসে, ‘অরণ্যের কূলে’ নামের ক্যাফেটি নদীর চর এলাকায় তৈরি করা হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই এই নির্মাণ করা হয়েছে। এরপরই সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিস পাঠিয়ে জবাব তলব করা হয়। সমস্ত নথি পর্যালোচনার পর অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের মদতেই দীর্ঘদিন ধরে এই নির্মাণ চলেছে। এলাকায় প্রচলিত দাবি অনুযায়ী, এই ক্যাফের সঙ্গে শওকত মোল্লার পুত্র ইমরানের নাম জড়িয়ে রয়েছে।

যদিও এই বিষয়ে তাঁর বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, নদীর চর দখল করে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছিল।

অবশেষে প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নদীর চর এবং জলাভূমি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ক্যানিং মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, সরকারি জমি বা নদীর চর দখল করে কোনও ধরনের স্থায়ী বা বাণিজ্যিক নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না।

আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে সময়ের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ না সরালে আগামী দিনে মাতলা নদীর চর এলাকায় বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান এবং বুলডোজার চলার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে ক্যানিং জুড়ে।