আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ২০২৫ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান করে চলেছেন। তাঁর ব্যাট থেকে বর্ষিত হচ্ছে ছক্কা।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর তিনি জাতীয় দলে জায়গা পান, যেখানে বাবর আজম ও মহম্মদ রিজওয়ানের মতো তারকাদের জায়গা হারানোর পর দলে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফারহান নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। এক আসরে সর্বোচ্চ রানের ক্ষেত্রে তিনি বিরাট কোহলির পুরনো রেকর্ড ভেঙে দেন। তাঁর স্ট্রাইক রেটও নজরকাড়া। এরপর থেকে পাকিস্তান সুপার লিগেও তাঁর ব্যাটিং ফর্ম অব্যাহত রয়েছে।
ফারহান বলেছেন, ''স্ট্রাইক রেটই বদলে দিয়েছে আমাকে।'' ফারহান জানান, তাঁর ব্যাটিং উন্নততর হওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন সতীর্থ ইফতিকার আহমেদ।
তিনি বলেন, ''আমি ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপের শেষ চার মরশুমে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলাম, কিন্তু আমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের টি-টোয়েন্টির জন্য যথেষ্ট ভাল মনে করা হয়নি। ইফতিখার আমাকে বলেছিল, ওপেনার হিসেবে ১৩২ স্ট্রাইক রেটে খেলা যথেষ্ট নয়।''
প্রথমে বিষয়টি মেনে নিতে কষ্ট হলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন আধুনিককালের টি-টোয়েন্টিতে শুধু রান নয়, গতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পেশোয়ারের কোচ আবদুর রহমানের পরামর্শও তাঁর উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, ১৪০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটের লক্ষ্য তাঁকে আরও কার্যকর ব্যাটসম্যান হতে সাহায্য করেছে।
পাওয়ার হিটিংয়ে বদলে গিয়েছে তাঁর খেলা। এরপর থেকেই ফারহান নিজের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আনেন। তিনি পাওয়ার হিটিং অনুশীলন শুরু করেন এবং ছক্কা মারার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
পরবর্তী ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে তিনি ১৭৮.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৪৯২ রান করেন এবং ২৯টি ছক্কা হাঁকান। এরপর ২০২৫ মরশুমে ৭ ইনিংসে ৪০টি ছক্কা মারেন এবং তিনটি সেঞ্চুরি করেন।
এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় ছিলেন বলে দাবি করেন।
এখন তাঁর লক্ষ্য সিঙ্গল রান নেওয়া। ব্যাটিংয়ে উন্নতি আনলেও এখন ফারহানের নতুন লক্ষ্য ডট বল কমানো এবং সিঙ্গল নেওয়া। ফারহান বলেন, ''আমি এখন সিঙ্গল নেওয়ার কৌশল শিখছি। আগে দৌড়তে ভয় পেতাম রান আউট হওয়ার কারণে।"'
চলতি পিএসএলে ফারহান এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। ৬ ইনিংসে তিনি ২৪৯ রান করেছেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে একটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি, পাশাপাশি ১৭টি ছক্কা।
ফারহানকে এখন পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের পাওয়ারহাউজ বলে মনে করা হচ্ছে।
















