আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইন্ডিয়ান অ্যাথলেটিক্স সিরিজ নং ১১ অনুষ্ঠিত হল শহরে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অ্যাথলিটদের অংশগ্রহণে জমে উঠেছিল প্রতিযোগিতা। তবে দিনের শেষে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গের অ্যাথলিটরা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড মিলিয়ে মোট ৮টি সোনা জিতে বাংলার ক্রীড়াবিদরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন।
প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিল এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের রুপোজয়ী হারমিলান বেইন্সের অংশগ্রহণ। মহিলাদের ৫,০০০ মিটার দৌড়ে তাঁকেই ফেভারিট ধরা হচ্ছিল। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে মহারাষ্ট্রের সঞ্জীবনী বাবুরাও যাদব ১৬ মিনিট ৪৭.১৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতে নেন। হারমিলানকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় রুপোর পদকেই।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের অ্যাথলিটরা বিভিন্ন বিভাগে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেন। মহিলাদের জ্যাভলিন থ্রো-তে তনুশ্রী মাহালদার সোনা জেতেন। পুরুষদের ২০০ মিটারে পীযূষ ঘোষ ব্রোঞ্জ পদক পান।
অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের লং জাম্পে সঞ্জয় মণ্ডল রুপো এবং সোহান কুমার বিশ্বাস ব্রোঞ্জ জেতেন। অনূর্ধ্ব-২০ মহিলাদের লং জাম্পে জিনিয়া মণ্ডল রুপোর পদক পান।
পুরুষদের ৮০০ মিটারে বাংলার আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সায়ন কর্মকার সোনা জেতার পাশাপাশি অর্ঘ্য ঘরামী রুপো এবং মহাসিন আওয়াল ও শুভজিৎ মণ্ডল ব্রোঞ্জ পান। অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের ৮০০ মিটারে মহম্মদ রাহুল ব্রোঞ্জ জেতেন।
অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের ৫,০০০ মিটারে বলরাম মণ্ডল রুপো পান। অনূর্ধ্ব-২০ মহিলাদের ১০০ মিটারে অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনা, অনুষ্কা কর রুপো এবং রিয়া রায় ব্রোঞ্জ পেয়ে বাংলার সাফল্য আরও উজ্জ্বল করেন।
অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের ১০০ মিটারে মোহিত মিস্ত্রি (রেস-এ) এবং তিপন দাস (রেস-বি) সোনা জয় করেন। মহিলাদের ১০০ মিটারে তমশ্রী মিশ্র সোনা জিতে বাংলার সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করেন।
অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রো-তে দেবাশিস সোনা এবং নারুগোপাল বিশ্বাস ব্রোঞ্জ পান। পুরুষদের ৪০০ মিটারে সমীর রহমান (রেস-এ) ও বুদ্ধদেব বারুই (রেস-বি) উভয়েই সোনা জিতে চমক দেখান।
মহিলাদের ৪০০ মিটারে অদিতি বন্দ্যোপাধ্যায় রুপো এবং মহিলাদের লং জাম্পে বিদিশা কুণ্ডু ব্রোঞ্জ পদক পান।
বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র বিভাগে ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে পশ্চিমবঙ্গের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্ডিয়ান অ্যাথলেটিক্স সিরিজের মতো প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আসরের জন্য অ্যাথলিটদের প্রস্তুত হতে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।















