আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বছর নিউজিল্যান্ডের পর এবার ফের দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে টিম ইন্ডিয়াকে। ভক্তরা দাবি করেছেন, হেড কোচ গৌতম গম্ভীরকে সরিয়ে দেওয়ার।

প্রথম একাদশ, ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ০-২ টেস্ট সিরিজ হারের পর এই পরিস্থিতিতে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ভারতীয় টেস্ট টিমের সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ।

গুয়াহাটি টেস্টে প্রোটিয়াদের কাছে ৪০৮ রানে লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে পড়ে ভারত। চোটের কারণে শুভমান গিল খেলতে না পারায় পন্থ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দলকে।

প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সিরিজজুড়ে ব্যাট হাতে ছন্দে ছিলেন না পন্থ। চার ইনিংসে মোটে ৪৯ রান করে তাঁর গড় নেমে আসে ১২.২৫–এ।

গুয়াহাটি টেস্টে বিশাল ব্যবধানে হারের পর তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যাটিং দুটোই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে ভক্তদের সামনে দায় স্বীকার করেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক–ব্যাটার।

পন্থ লিখেছেন, ‘গত দু’সপ্তাহে আমরা মোটেও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি, এটা সত্যি। দল হিসেবে এবং ব্যক্তি হিসেবে আমরা সবসময়ই উচ্চমানের পারফরম্যান্স দিতে চাই, যাতে কোটি কোটি ভারতীয়র মুখে হাসি ফোটে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এবার প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় দুঃখিত। তবে খেলাধুলা আমাদের শেখায়, হার থেকে কীভাবে শিখতে হয়, মানিয়ে নিতে হয় এবং উন্নতি করতে হয়। ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। আমরা জানি এই দল কী করতে সক্ষম। আরও কঠোর পরিশ্রম, আত্মসমালোচনা ও নতুন করে ফোকাস করে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব। দল হিসেবেও, ব্যক্তি হিসেবেও।’

পোস্টের শেষে পন্থ লিখেছেন, ‘আপনাদের অটুট সমর্থন ও ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। জয় হিন্দ।’ প্রসঙ্গত, টেস্ট সিরিজ হারের হতাশা ভুলে পন্থকে এখন প্রস্তুত হতে হবে তিন ম্যাচের ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজের জন্য।

যা আগামী রবিবার ৩০ নভেম্বর রাঁচিতে শুরু হবে। রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলিকে খেলতে দেখা যাবে দেশের মাটিতে।

উল্লেখ্য, গুয়াহাটি টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফরা।

তখনই বর্ষাপারা স্টেডিয়ামের দর্শকাসনের একটি অংশ থেকে ‘গৌতম গম্ভীর হায় হায়’ এবং ‘গম্ভীর গো ব্যাক’ ধ্বনি ওঠে। ভারতের কোচ দাঁড়িয়েছিলেন খুব কাছেই।

ফলে সেই আওয়াজ তাঁর কানেও পৌঁছচ্ছিল। ভারতের অনেক ক্রিকেটারও আওয়াজ শুনে দর্শকাসনের দিকে তাকিয়েছিলেন। তখনই মাঠ থেকে দর্শকদের উদ্দেশে ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে তাঁদের চুপ করতে বলেন সিরাজ।

একাধিকবার এই কাজ করতে দেখা যায় তাঁকে। হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে গলার স্বর নামানোরও অনুরোধ করেন। বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়েছিলেন সীতাংশু।

তিনি বলেন, ‘যে লোকটা ভারতের হয়ে এত কথা বলে তাকেই তোমরা হায় হায় বলছ?’ এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করলে বিসিসিআই টিম ম্যানেজাররা অভিযোগও দায়ের করেন।

ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশ দ্রুত ছুটে যায়। যাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করে স্ট্যান্ড থেকে আটকও করা হয়।

কলকাতায় ঘূর্ণি পিচ বানানোর কারণে ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিল আড়াই দিনেই। গুয়াহাটিতে ম্যাচ পাঁচ দিন গড়ালেও ফলাফল একই রয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না সমর্থকরা। ফলে ঘরের মাঠে কোনও দিন যে দৃশ্য কল্পনা করতে পারেননি গম্ভীর, সেটাই দেখতে হয়েছে তাঁকে।

এই ঘটনার পর সাংবাদিক সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বিসিসিআইয়ের রয়েছে। আমি বরাবর দলের কথা ভেবেছি। নিজের নয়।’‌

যদিও বোর্ডকর্তারা গম্ভীরের পাশেই রয়েছেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক বোর্ডকর্তা বলেন, ‘এখনই গম্ভীরকে সরিয়ে দেওয়ার কথা আমরা ভাবছি না। ও একটা দল তৈরি করছে। ২০২৭–এর বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর গম্ভীর এবং নির্বাচকদের সঙ্গে বৈঠক হবে বোর্ডকর্তাদের।’‌