আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঐতিহাসিক রঞ্জি ট্রফি জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসল জম্মু ও কাশ্মীর দল। শনিবার কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হুবলি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রঞ্জি ফাইনালে কর্ণাটককে প্রথম ইনিংসের লিডে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে জম্মু ও কাশ্মীর।
ম্যাচ শেষে উল্লাসে মাঠে ছুটে এসে খেলোয়াড়রা মিঠুন মানহাসকে কাঁধে তুলে নেন। উল্লেখ্য, তিনি বর্তমানে বিসিসিআইয়ের সভাপতি। ফাইনালে জম্মু-কাশ্মীরের জয়ে বড় ভূমিকা রাখা দুই ব্যাটার ওপেনার কামরান ইকবাল ও সাহিল লোত্রা।
ইকবাল অপরাজিত ১৬০ রান করেন, আর লোত্রা অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস খেলেন। ফাইনালে তাঁদের ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সেই জম্মু ও কাশ্মীর প্রথমবারের মতো রঞ্জি ট্রফি জয়ের স্বাদ পায়।
দলের সাফল্যের নেপথ্যে মানহাসের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেন খেলোয়াড়রা। ২০১৫ সালে তিনি দিল্লি থেকে নিজের ঘরোয়া ক্রিকেটের কেন্দ্র বদলে জম্মু ও কাশ্মীরে যোগ দেন এবং পরের বছর পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।
তবে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেটের উন্নতির জন্যও বহুদিন বোর্ডের কমিটিতে থেকে কাজ করেছেন তিনি। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম তদারকির জন্য গঠিত বিসিসিআই উপকমিটিতেও তিনি কাজ করেন।
জম্মুতে জন্ম নেওয়া মানহাস দল গঠনে কাজ করেন অনিল গুপ্ত ও জয় শাহর সঙ্গে। জম্মু ও কাশ্মীরের রঞ্জি জয়ের পর ব্রিগেডিয়ার অনিল গুপ্তও মানহাসের দূরদর্শিতার প্রশংসা করেন।
তাঁর মতে, দলের আমূল পরিবর্তনের পেছনে মানহাসের পরিকল্পনাই ছিল মূল চালিকাশক্তি। তিনি দলের জন্য বাইরের কোচ নিয়োগ, ভিন্ন রাজ্যের অধিনায়ক নির্বাচন এবং সহায়ক স্টাফে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেন।
পাশাপাশি জম্মুতে লাল মাটির উইকেট তৈরি করে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সুযোগ দেওয়াও ছিল একটি বড় পরিবর্তন।
বিসিসিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনিল গুপ্ত বলেন, ‘মিঠুন মানহাসের দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে ক্রিকেটের মান বদলাতে চেয়েছিলেন এবং সেই লক্ষ্যেই একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
ঐতিহাসিক সাফল্যের পর জম্মু ও কাশ্মীর দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও। রঞ্জি ট্রফি জয়ের পর খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফেদের জন্য দু’কোটি টাকা নগদ পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন তিনি।
ঘরের মাঠে কর্ণাটককে পরাজিত করে জম্মু ও কাশ্মীর যে দাপুটে জয় পেয়েছে, তার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এক পোস্টে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। এই জয় গোটা রাজ্যকে গর্বিত ও অনুপ্রাণিত করেছে।
পাশাপাশি, এই রঞ্জি ট্রফির জয়ের ফলে নগদ পুরস্কারের পাশাপাশি প্রত্যেককে সরকারি চাকরিও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আবদুল্লা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, 'জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটাররাও ভারতীয় দলের জার্সি পরার ক্ষমতা রাখে এটা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল। আমাদের দলের ছেলেরা ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষস্থানের দখল নিয়েছে। এবার আশা করি ওরা জাতীয় দলেও সুযোগ পাবে।'
















