আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেক্সিকোর মন্টেরে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত শুরু করে  সুইডেন। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই অসাধারণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি।

২২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন। গোলটির সূত্রপাত হয় সুইডেন অধিনায়ক ভিক্টর লিন্ডেলফের লম্বা পাস থেকে। তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক চামাখ বল ক্লিয়ার করতে এগিয়ে এলেও সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। পরে ভিক্টর গিওকেরেসের শট প্রতিহত করেন ডিফেন্ডার  তালবি। তবে ফিরতি বল পেয়ে আয়ারি দারুণ এক শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের ওপরের কোণে। 

তবে গোল করার পর কোনও উচ্ছ্বাস দেখাননি আয়ারি। দুই হাত উঁচু করে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, যখন সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে উদযাপন শুরু করেন। তাঁর এই সংযত প্রতিক্রিয়া দ্রুতই আলোচনার জন্ম দেয়।

সুইডেনে জন্ম নেওয়া আয়ারির পারিবারিক শিকড়  তিউনিসিয়া ও মরক্কোয়। তাঁর বাবা তিউনিসিয়ার নাগরিক হওয়ায় উত্তর আফ্রিকার দেশটির হয়ে খেলার সুযোগও ছিল তার সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুইডেনের জার্সিকেই বেছে নেন তিনি। তিউনিসিয়ার প্রতি সম্মান জানাতেই গোল উদযাপন থেকে বিরত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম গোলের পরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে সুইডেন। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি আসে আলেকজান্ডার ইসাকের পা থেকে। নিজেদের অর্ধ থেকে শুরু হওয়া এক দ্রুত আক্রমণে গিওকেরেসের চমৎকার সহায়তায় বাম দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসাক।

তবে সহজে হার মানেনি তিউনিসিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ব্যবধান কমিয়ে আনে আফ্রিকার দলটি। একটি লং থ্রো থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে হ্যানিবাল মেজব্রির ক্রসে ডিফেন্ডার রেকিক হেড করে গোল করেন। গোলরক্ষক ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্টকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ২-১ করেন তিনি।

ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরে আসে। যদিও প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল সুইডেন, তবুও ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে ইয়াসিন আয়ারির অসাধারণ গোল এবং তার আবেগঘন, সংযত উদযাপন।