আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে হতে চলা বিশ্বকাপ বয়কট করছে বাংলাদেশ। তারা খেলতে না আসায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকেই পরিবর্ত দল হিসেবে ঘোষণা করেছে আসন্ন বিশ্বকাপে।
ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ খেলতে আসবে না, এই ইস্যুতে পাকিস্তান বাংলার বাঘেদের পক্ষ নিয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। আইসিসি-র দ্বিচারিতায় অসন্তুষ্ট নকভি। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাস্তায় হাঁটার দিকেই কি এগোচ্ছে পাকিস্তান? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কি বয়কট করবে পাকিস্তানও? এমন পরিস্থিতিতে নকভি জানিয়েছেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করবে কিনা, তা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থির হবে।
নকভি বলেছেন, ''আমরা প্রধানমন্ত্রীর ফেরার জন্য অপেক্ষা করছি।'' পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সুইজারল্যান্ডে। পাকিস্তানে তিনি ফেরার পরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন নকভি।
এদিকে শনিবারই আইসিসি তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ নেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাজম শেঠি বলেন, ''অন্য দেশগুলোও যদি একই ভাবে রুখে দাঁড়ায়, তাহলে আইসিসি বুঝবে এটা ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নয়। এটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল।''
বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড এবার খেলবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। গ্রুপ পর্বে স্কটিশরা কলকাতায় খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৭ ফেব্রুয়ারি), ইতালি (৯ ফেব্রুয়ারি) এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে (১৪ ফেব্রুয়ারি)। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে নেপালের মুখোমুখি হবে স্কটিশরা।
এদিকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না আসায় একাধিক ক্ষতির মুখে পড়বে তারা। তাদের উপরে নেমে আসতে পারে আরও খাঁড়ার ঘা।
আইসিসি থেকে বার্ষিক আয় হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়ে গেল। বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ। আইসিসি-র কাছ থেকে বার্ষিক প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকার রাজস্বের ভাগ সম্ভবত হারাতে চলেছে শাকিব আল হাসানের দেশ। আইসিসি থেকে বিসিবির বার্ষিক আয় আসে প্রায় ষাট শতাংশ। সেটা হয়তো হারাতে চলেছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে আগামী তিন বছরের বরাদ্দও কমিয়ে দিতে চলেছে আইসিসি।
সম্প্রচারস্বত্ব ও স্পনসরশিপেরও ক্ষতি হতে চলেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়ের একটা ভাল অংশ কিন্তু সম্প্রচারস্বত্ব ও স্পনসরশিপ থেকেই আসে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেই। ফলে বিসিবি তো ক্ষতির মুখে পড়বেই। সেই সঙ্গে ক্ষতিসাধন করবে অফিসিয়াল সম্প্রচারকারী চ্যানেল। এই ক্ষতি পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এছাড়া অংশ নিলে যে অর্থ পাওয়া যায়, সেটা হারাবে বাংলাদেশ। প্রাইজমানিও পাবে না।
বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ। ফলে সামনের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ হয়তো হারাতে চলেছে বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে।
