আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইউরোপসেরার মুকুট ছোঁয়ার খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত আর পারল না আর্সেনাল। স্বপ্নের মতো শুরু করেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা অধরাই রয়ে গেল গানার্সদের। নাটকীয় ফাইনালে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় ১-১ অবস্থায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতল প্যারিস সাঁ জাঁ। লুইস এনরিকের দল এ নিয়ে নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ঘরে তুলল।
বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে দুর্দান্ত শুরু করেছিল আর্সেনাল। ম্যাচের ৬ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংলিশ ক্লাবটি। বাঁ দিক দিয়ে দারুণ এক আক্রমণে ঢুকে শক্তিশালী শটে গোল করেন কাই হ্যাভার্টজ। তাঁর গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্সেনাল।
গোল হজমের পর বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করলেও সমতা ফেরাতে বেশ সময় নেয় পিএসজি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান দেম্বেলে। এরপর দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনও গোল হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, সেখানেও অমীমাংসিত থাকায় শিরোপা নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।
টাইব্রেকারে প্রথম শটে গোল করেন পিএসজির গনজালো রামোস এবং আর্সেনালের ভিক্তর ইয়োকেরেশও। দ্বিতীয় শটে পিএসজির হয়ে সফল হন দেজিরে দুয়ে, কিন্তু আর্সেনালের হয়ে শট মিস করেন এজে। এরপর পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট বাঁচিয়ে আশা জাগান গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। আর্সেনালের হয়ে গোল করে সমতা ফেরান ডেক্লান রাইস।
চতুর্থ শটে দুই দলের হয়ে সফল হন হাকিমি এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি। পঞ্চম শটে পিএসজির হয়ে গোল করেন লুকাস বেরাল্ডো। ফলে আর্সেনালের শেষ শটটি গোল হওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু পুরো ম্যাচে অসাধারণ রক্ষণ সামলানো গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েশ চাপের মুহূর্তে বল উড়িয়ে দেন। তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পিএসজি শিবির, আর হতাশায় ভেঙে পড়ে আর্সেনাল।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখে আসা আর্সেনালের জন্য এটি আরেকটি হৃদয়ভাঙা রাত। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরা হয়ে নিজেদের আধিপত্য আরও দৃঢ় করল পিএসজি।















