আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে আইসিসি। আর এরপর পাকিস্তানও টি–২০ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিচ্ছে। যদিও গোটা বিশ্বকাপ নয়, শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করার পরিকল্পনা নিয়েছেন মহসিন নকভিরা। এমনটাই সূত্রের খবর।


এই পরিস্থিতিতে টি–২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে কি না, তা নিয়ে আগামী শুক্রবার বা সোমবার পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নেবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এ কথা জানিয়েছেন।


সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। তাঁদের মধ্যে ৩০ মিনিট কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপ নিয়ে সমস্ত পরিস্থিতি পাক প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করেছেন নকভি। বৈঠক শেষে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আইসিসির অবস্থান এবং গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধান করব।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার নেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে।’ সঙ্গে শাহবাজের সঙ্গে বৈঠকের ছবিও দিয়েছেন নকভি, যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রীও।
তবে পোস্টে পাক প্রধানমন্ত্রীর নাম ভুল লেখেন নকভি। যা নিয়ে হাসির রোল ওঠে নেটপাড়ায়। 


তবে এটা ঘটনা, আইসিসি টি–২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নকভি। তিনি গত শনিবার জানান, পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন তাঁরা। সোমবার শাহবা‌জের সঙ্গে সেই বৈঠক করেছেন পিসিবি প্রধান।


পাকিস্তান সরকারিভাবে টি–২০ বিশ্বকাপ বয়কটের কথা এখনও জানায়নি। সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলতে পারে পাকিস্তান। প্রতিবাদ হিসাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে টি–২০ বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে পিসিবি।
অন্য একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরো নাম প্রত্যাহার করবে না পাকিস্তান। আইসিসির শাস্তির ভয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে পারে পিসিবি। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করতে পারে তারা। ভারত ছাড়া বাকি সব দেশের বিরুদ্ধে খেলবে তারা।


এটা ঘটনা, পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ভালভাবে নেয়নি আইসিসি। নকভিরা বিশ্বকাপ বয়কট করলে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে আইসিসি। আইসিসির সব সদস্য দেশই পাকিস্তানের এই হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ। কারণ মূল সমস্যার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই। প্রয়োজনে পাকিস্তানকে দীর্ঘদিন সাসপেন্ড করতে পারে আইসিসি। এদিকে, পিসিবির এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিসিসিআইও।