খ্যাতির আলো, রেড কার্পেট বা পুরস্কারের মঞ্চ, এসব তখন তাঁর জীবনের অংশই ছিল না। বেঁচে থাকা ছিল একমাত্র লক্ষ্য। ‘টুয়েলভথ ফেল’ ছবির মাধ্যমে যিনি আজ ঘরে ঘরে পরিচিত নাম, সেই অভিনেতা বিক্রান্ত ম্যাসির শুরুর দিনগুলো কেটেছে চরম লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে।
2
9
কিশোর বয়সেই সংসারের চাপ কাঁধে নিয়ে তিনি কাজ করেছেন একাধিক জায়গায়, দিনের পর দিন ১৬ ঘণ্টা খেটেছেন, আর অনেক সময় স্কুলের খরচ বাঁচানোর জন্য খেয়ে থেকেছেন শুধু শুধু পার্লে-জি বিস্কুট আর জল!
3
9
আজ যখন তিনি আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের বায়োপিকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন অতীতের সেই কঠিন বছরগুলোর কথা অকপটে সামনে আনলেন বিক্রান্ত। সেই সময়গুলো ছিল টানাটানির, স্থানীয় ট্রেনে অবিরাম যাতায়াতের, আর এমন কাজের, যেখানে বিশ্রামের জায়গা ছিল প্রায় নেই বললেই চলে।
4
9
এক সাক্ষাৎকারে নিজের পথচলা নিয়ে ফিরে তাকিয়ে বিক্রান্ত বলেন, দর্শকদের ভালবাসাই তাঁকে আজ এখানে পৌঁছে দিয়েছে। “২১ বছর ধরে পেশাদার অভিনেতা হিসেবে কাজ করছি। শুরুটা হয়েছিল টেলিভিশন দিয়ে, প্রায় এক দশক কাজ করেছি ছোট পর্দায়। আজও দর্শকরা পাশে আছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। আমার এখন ৩৮ বছর বয়স তবুও মানুষ আমার কাজ দেখছেন, ভালবাসছেন,” বলেন তিনি। তবে সেই সময় ক্যামেরার সামনে আসার পেছনে কোনও স্বপ্ন বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা কাজ করেনি, ছিল নিছক প্রয়োজন।
5
9
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রথম ক্যামেরার মুখোমুখি হন বিক্রান্ত। তার আগেই নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে শুরু করেন কাজ। “আমি তখন রেস্তোরাঁয় কাজ করতাম। কারণটা খুব সোজা-নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে হতো। পাশাপাশি শিয়ামক দাভারের ট্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্ট্রাক্টর হিসেবেও কাজ করেছি,” বললেন তিনি।
6
9
সেই সময়ের দিনগুলো ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ ক্লান্তিকর। চারটে লোকাল ট্রেন বদলে যাতায়াত, টানা ১৬ ঘণ্টার শিফট, আর ন্যূনতম খেয়ে বেঁচে থাকা, সব মিলিয়ে এক কঠিন বাস্তব। “১৬ বছর বয়সে প্রতিদিন চারটে লোকাল ট্রেন বদলাতাম, ১৬ ঘণ্টা কাজ করতাম, আর অনেক সময় শুধু পার্লে-জি আর জলের উপরেই দিন কাটত। কেউ শখ করে এটা করে না -বিশেষ করে একটা ছেলে। আমি করেছি, কারণ আমাকে করতেই হতো,” বলেন বিক্রান্ত। এই অভিজ্ঞতাই পরে ‘টুয়েলভথ ফেল’-এ মনোজ কুমার শর্মার চরিত্রে প্রাণ এনে দেয়। পর্দার লড়াইটা তাঁর কাছে অভিনয় ছিল না, ছিল চেনা জীবন।
7
9
‘বালিকা বধূ’, ‘ধরম বীর’-এর মতো ধারাবাহিক থেকে শুরু করে ‘লুটেরা’, ‘ছাপাক’, ‘হাসিন দিলরুবা’ ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন বিক্রান্ত। তবে ‘টুয়েলভথ ফেল’ তাঁর কেরিয়ারে এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়। সংযত অভিনয়, গভীর আবেগ আর বাস্তবতার ছোঁয়ায় তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই প্রজন্মের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে।
8
9
আগামী দিনে তাঁর কাজের তালিকাও সমান বৈচিত্র্যময়। শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের বায়োপিক ছাড়াও তিনি থাকছেন ধর্মা প্রোডাকশনসের ‘দোস্তানা ২’-এ, যেখানে লক্ষ্যের সঙ্গে প্রথমবার স্ক্রিন শেয়ার করবেন বিক্রান্ত।
9
9
পার্লে-জি আর জলের দিন থেকে বলিউডের অন্যতম দর্শকপ্রিয় মুখ -বিক্রান্ত ম্যাসির গল্প আসলে টিকে থাকার গল্প। লড়াই, সংযম আর নিরন্তর পরিশ্রমের গল্প। তাঁর যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, অনেক সময় বেঁচে থাকার লড়াইই ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত গড়ে দেয়। আর সত্যিকারের অভিনয় জন্ম নেয় বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই।