আজকাল ওয়েবডেস্ক: দলবদলের বাজারে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে মোহনবাগান। আইএসএল হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ মেটাতে এবার কোনও বিভাগে খামতি রাখতে চায় না কর্তৃপক্ষ। ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে এসেছেন মিগুয়েল। আগের বছর গোল হাতছাড়া হওয়ার খেসারত দিতে হয়। আক্রমণভাগ মজবুত করার পাশাপাশি গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে রক্ষণও। এবার মোহনবাগানের রক্ষণ আরও শক্তিশালী হল। জাতীয় দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার রাহুল ভেকে যোগ দিলেন সবুজ মেরুনে। এক বছরের চুক্তিতে।

অভিজ্ঞ এবং কলকাতায় আগে খেলে যাওয়া রাহুল মূলত সেন্টার ব্যাক। রাইট ব্যাকেও খেলতে পারেন। জাতীয় দলের জার্সিতে ৫০ টিরও বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দেশের অধিনায়কত্বও করেছে। 

গত কয়েকবছর আইএসএলে চুটিয়ে খেলছেন রাহুল। সেট পিসে অনেক গোলও আছে তাঁর। অভিজ্ঞতার জন্য তিনি যেকোনও দলের কাছেই সম্পদ। কলকাতায় আগে ডার্বি খেলে যাওয়ার সুবাদে মোহনবাগান সমর্থকদের আবেগ, পরিবেশ এবং দলের ঐতিহ্য ও পরম্পরা সম্পর্কে অবগত। কেরিয়ারের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলে খেলেছেন। মোহনবাগানে খেলারও স্বপ্ন ছিল। এবার সেটা বাস্তবায়িত হল। মোহনবাগানের চুক্তিতে সই করার পর রাহুল ভেকে বলেন, 'যেকোনও ভারতীয় ফুটবলারেরই মোহনবাগানে খেলার স্বপ্ন থাকে। দেশের সেরা ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত এবং রোমাঞ্চিত। এখানে আমার ভারতীয় দলের সতীর্থরা অনেকেই খেলে। তাই মানিয়ে নিতে কোনও অসুবিধা হবে না। অভিজ্ঞতা এবং নিজের দক্ষতা দিয়ে দলকে সাহায্য করতে আমি তৈরি। কোচ আমাকে সুযোগ দিলে নিজের সেরাটা দেব।' 

কেরল, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো দলের জার্সিতে নিয়মিত আইএসএল খেলেছেন।ভারতের জার্সি এবং বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে ট্রফি জিতেছেন। এবার সবুজ মেরুন জার্সিতে ট্রফি হাতে তুলতে চান। রাহুল ভেকে বলেন, 'এবার আমার লক্ষ্য সবুজ মেরুন জার্সিতে ডার্বি জেতা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ নেওয়া। শুধু আইএসএল নয়, মোহনবাগান ম্যানেজমেন্টের যা দর্শন তাতে সব ট্রফি জেতার জন্যই দল তৈরি করে। যা আমার ভাবনার সঙ্গে মেলে।' কলকাতায় আগেও খেলে গিয়েছেন। ডার্বিতে লাল হলুদ জার্সিতে গোল রয়েছে। এবার পাশা ঘোরাতে চান। রাহুল ভেকে বলেন, 'কলকাতা আমার কাছে নতুন নয়। আমি ইস্টবেঙ্গলে খেলেছি। সবার নিশ্চয়ই মনে আছে লাল হলুদ জার্সি গায়ে আমি মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ডার্বিতে গোল করেছিলাম এবং জিতেছিলাম। এবার সেটা উল্টে দেবার সুযোগ এসেছে। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বিতে জেতার এবং গোল করার ইচ্ছে আছে।' আবার কলকাতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের কাছে এই প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছেন সদ্য মোহনবাগানে সই করা ডিফেন্ডার।