আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নতুন সভাপতি হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দীর্ঘ প্রায় ন'বছর সভাপতি থাকার পর পদত্যাগ করলেন আমিরুদ্দিন ববি। শনিবার ক্লাবের ট্রাস্টি বোর্ড ও কার্যকরী কমিটির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
পদত্যাগের ঘোষণা করে আমিরুদ্দিন ববি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে তিনি ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দাবি, ১৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও তাঁদের কমিটির আমলে তিনবার লিগ ও আই-লিগ জয়ের সাফল্য এসেছে। তবে বিনিয়োগকারী সংস্থা বাঙ্কারহিল ও শ্রাচী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারায় ক্লাব আর্থিক সঙ্কটে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা তা গ্রহণ করেনি। ফলে আইএসএলে প্রতিযোগিতামূলকভাবে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি এবং ক্লাবকে অবনমনের মুখে পড়তে হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর প্রসঙ্গে ববি বলেন, ''ক্লাব শেষ হয়ে যায়নি। হুমায়ুন ভাই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আমরা মনে করেছি, তাঁর নেতৃত্বে ক্লাবের উন্নতি হবে। তাই তাঁকেই সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'' আমিরুদ্দিন ববি আরও জানান, নির্বাচিত সদস্য এবং লাইফ মেম্বার হিসেবে ক্লাবের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকবেন।
নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ''দু'-চারজন মিলে ক্লাব চালানো সম্ভব নয়। যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি না করে, সমর্থকদের ক্লাবের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা উচিত।”
ক্লাবের আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে হুমায়ুন বলেন, ''বর্তমানে ক্লাবের মোট দেনা ১৩ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা। এক মাসের মধ্যে সব মেটানো সম্ভব নয়। তবে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া টাকার অন্তত ৫০ শতাংশ পরিশোধ করার চেষ্টা করা হবে। বাকি অর্থ ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে।''
তিনি আরও জানান, শীঘ্রই আরও একটি বৈঠক ডেকে ক্লাবের বিভিন্ন পদে কারা থাকবেন বা থাকবেন না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে আলোচনা করেই ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান নতুন সাদা-কালো সভাপতি। সেই সঙ্গে ক্লাব থেকে
রাজনীতি ও ময়দানের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, “রাজনীতি-মুক্ত ময়দান কখনও সম্ভব নয়। তবে ময়দান অতিরিক্তভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছিল, সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ক্লাবের উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গেও একযোগে কাজ করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
সভাপতি পদে হুমায়ুন কবীরের আগমনকে কেন্দ্র করে এখন মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে ঐতিহ্যশালী ক্লাবকে আবারও সাফল্যের পথে ফেরানোই নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।















