আজকাল ওয়েবডেস্ক: কমনওয়েলথ গেমসে সোনা হাতছাড়া নীরজ চোপড়ার। রুপো জিতলেন ভারতীয় তারকা। তবে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে জ্যাভলিনে জোড়া পদক ভারতের। ব্রোঞ্জ জেতেন যশবীর সিং। নিজের প্রথম অলিম্পিকেই বাজিমাত। এদিকে আট বছর পর কমনওয়েলথের মঞ্চে ফেরেন নীরজ। শুক্রবার গ্লাসগোতে একনম্বর প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমকে পেছনে ফেলে রুপো জেতেন নীরজ। ফাইনালের প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে যান অলিম্পিক এবং কমনওয়েলথের সোনাজয়ী। কিন্তু কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন রোমেশ থারাঙ্গা পথিরাগা। সোনা জেতেন শ্রীলঙ্কান। ভারতীয় সময় মধ্যরাতে নতুন ইতিহাসের রচনা করেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। এদিন পরিবেশ প্রতিযোগীদের পক্ষে ছিল না। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। তারওপর হাওয়ার দিশা বিপরীতে বইছিল। টোকিওতে এমন পরিস্থিতিতেই সোনা জিতেছিলেন নীরজ। কিন্তু সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলেন না গ্লাসগোতে। থামলেন রুপোতে। তবে তাতে অখুশি হবেন না ভারতীয় তারকা। কারণ চোটের পর এটা তাঁর কামব্যাক মঞ্চ।
চোটের জন্য ২০২২ কমওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে পারেননি। ২০১৮ সালে সোনা জিতেছিলেন নীরজ। এদিন প্রথম প্রচেষ্টার ৮০.৯৭ মিটার বর্শা ছোড়েন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টার মরশুমের সেরা থ্রো নীরজের। ৮৫.৮৩ মিটার বর্শা ছোড়েন। তৃতীয় প্রচেষ্টার ৮১.২৯ মিটার ছোড়েন। চতুর্থবার ৮০.৭৩ মিটার দূরত্বে ছোড়েন নীরজ। পঞ্চম প্রচেষ্টায় লাইন অতিক্রম করে যান। ফাউল করেন নীরজ। ষষ্ঠ তথা শেষ চেষ্টাতেও ফাউল। শেষ রাউন্ডে যশবীর ঢুকে পড়েন পদকের দৌড়ে। ৮৫.৪১ মিটার বর্শা ছোড়েন আরেক ভারতীয়। নিশ্চিত করেন ব্রোঞ্জ। এদিকে ৮৯.৭৫ মিটার বর্শা ছুঁড়ে নীরজকে ছাপিয়ে সোনা জেতেন রোমেশ। নীরজ চোপড়া ছাড়াও রোহিত যাদব এবং যশবীর সিংও ছিল ফাইনাল রাউন্ডে। এই প্রথম কমনওয়েলথে জ্যাভলিনে ভারতের তিনজন প্রতিযোগী।
নীরজ ভারতের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ এবং বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে জ্যাভলিন থ্রোতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন। অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ভারতের প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেন। এরপর ২০২৩ সালে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জেতেন। প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন নীরজ। তারপর অলিম্পিক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এশিয়ান গেমসে সোনা জেতেন নীরজ।
নীরজ ডায়মন্ড লিগেও একাধিক পদক জিতেছেন। ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব জ্যাভলিন থ্রোয়ের অন্যতম সেরা প্রতিযোগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে অর্জুন পুরস্কার, খেলরত্ন এবং পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্ব তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁকে অনুপ্রেরণার প্রতীক করে তুলেছে। নীরজ শুধু একজন সফল ক্রীড়াবিদই নন, তিনি আত্মবিশ্বাস এবং সম্ভাবনার প্রতীক। তাঁর সাফল্য দেশের অসংখ্য তরুণকে অ্যাথলেটিক্স সহ বিভিন্ন খেলায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে।
















