আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে খেলা লিওনেল মেসি এখন আকাশছোঁয়া অর্থ রোজগার করেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলে তিনি এমএলএসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। এর বাইরে অ্যাপল টিভি ও অ্যাডিডাসের সঙ্গে চুক্তি থেকে অতিরিক্ত আয়ও রয়েছে তাঁর।

তবে কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে থাকার সময় মেসির মাসিক আয় ছিল মাত্র ৬০০ ইউরো। 

পরে ২০০৫ সালে বার্সেলোনার সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষরের পর তার মাসিক বেতন বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো, যা বছরে প্রায় ৩০ লাখ ইউরোর সমান।

সম্প্রতি নিজের প্রথম বেতন নিয়ে একটি আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন মেসি। তিনি জানান, প্রথম বেতন হাতে পেয়ে বিলাসিতা বা ব্যক্তিগত কোনও শখ পূরণে সেই অর্থ ব্যয় করেননি। বরং পুরো অর্থ পরিবারের  জন্য আর্জেন্টিনায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা মেসির শৈশব ছিল সংগ্রামের।  ছোটবেলায় তাঁর গ্রোথ হরমোনজনিত একটি শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে, যার চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ছেলের ফুটবল স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পরিবারের সদস্যরা নানা ত্যাগ স্বীকার করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসি স্পেনে পাড়ি জমান এবং বার্সেলোনার অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। সেখানে ক্লাব তাঁর চিকিৎসা ও ফুটবল বিকাশের দায়িত্বও গ্রহণ করে।

মেসি জানান, প্রথম বেতন পাওয়ার মুহূর্তে পরিবারের সেই ত্যাগ ও কষ্টের কথা তাঁর মনে পড়েছিল। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অর্থটি নিজের জন্য নয়, পরিবারের জন্য ব্যয় করবেন। বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটিই ছিল তার প্রথম বড় পদক্ষেপ।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হওয়ার পরও মেসি বারবার তাঁর পরিবারের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তিনি কখনও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি।

মেসির প্রথম বেতনের গল্প শুধু অর্থ উপার্জনের গল্প নয়, এটি ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা এবং পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ।