আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এখন আর রেকর্ড, সম্মান, যশের পিছনে ধাওয়া করেন না। অর্থ, সম্মান তাঁকে ধাওয়া করে। এই রোনাল্ডোই নিজের কেরিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে কত টাকা উপার্জন করতেন? 
মাত্র ১৬ বছর বয়সে, যখন রোনাল্ডো লিসবনের স্পোর্টিং ক্লাবে রোনাল্ডো খেলছেন, সেই সময়ে জীবনের প্রথম নিয়মিত বেতন হিসেবে মাসে প্রায় ১,৬০০ মার্কিন ডলার উপার্জন করতে শুরু করেন। তিনি সেই অর্থ নিজের কাছে না রেখে সম্পূর্ণ আস্থা নিয়ে তুলে দেন তাঁর মা মারিয়া ডোলোরেসের হাতে। তাঁর মা সেই অর্থ যত্নের সঙ্গে ব্যাংকে জমা রাখতেন, সঞ্চয় করতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছেলেকে খরচের টাকা দিতেন। 

এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল তাঁদের কঠিন সংগ্রামের অতীত। পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন রোনাল্ডো। সংসারে অর্থের অভাব ছিল। রোনাল্ডোর মা রাঁধুনী হিসেবে কাজ করতেন। একাধিক কঠোর পরিশ্রমসাধ্য কাজ করতেন। অনেক সময় তিনি নিজের খাবার পর্যন্ত খেতেন না, যাতে তাঁর ছেলে ফুটবল খেলার জন্য প্রয়োজনীয় জুতো, পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে পারে। নিজের কষ্ট, খিদে-ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে একমাত্র লক্ষ্য রেখেছিলেন, ছেলের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

রোনাল্ডো বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে, আজ তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর মায়ের। তাঁর ভাষায়, ''আমার মা আমার জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছেন। আমি যা হয়েছি, তার জন্য আমি মায়ের কাছে চিরঋণী।'' সেই কারণেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি, সাফল্য এবং বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়ার পরও তিনি কখনও তাঁর মায়ের অবদান ভুলে যাননি। 

রোনাল্ডোর গল্প শুধু একজন বিশ্বসেরা ফুটবলারের সাফল্যের কাহিনি নয়, এক মায়ের অসীম ত্যাগ, বিশ্বাস এবং সন্তানের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালবাসার এক অনন্য উদাহরণ।