আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিবারের বড়রা যে পথে হাঁটেন, ছোটরাও সাধারণত সেই পথই অনুসরণ করে। বাংলার এই বহুল প্রচলিত প্রবাদটি অনেক সময়ে বাস্তব জীবনে মিলেও যায়। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের গল্প সেরকমই। 

ফ্রান্সের মাঝমাঠে ফুল ফুটিয়েছেন জিদান। কিন্তু তাঁর চার ছেলে, এনজো, লুকা, থিও ও এলিয়াজ বাবার মতো একই পথ পুরোদস্তুর অনুসরণ করেননি। 

কেউ মিডফিল্ডার, কেউ  গোলকিপার। আবার কেউ ডিফেন্ডার। আবার কেউ অন্য ভূমিকায়। 

চার ভাইয়ের প্রত্যেকেই ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউই ফ্রান্স জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে জায়গা পাননি। জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা রয়েছেন বিশ্বকাপের আলজেরিয়ার ২৭ সদস্যের দলে। 

তবে টুর্নামেন্টের দলে তাঁর জায়গা এখনো নিশ্চিত নয়। স্কোয়াডে চারজন গোলরক্ষক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে থেকে চূড়ান্তভাবে ২৬ জন খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

লুকা গোলকিপার। সম্প্রতি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব গ্রানাডার হয়ে খেলতে গিয়ে গুরুতরভাবে আহত হন। ম্যাচ চলাকালীন তিনি কনকাশন এবং চোয়াল ও চিবুকের হাড়ে চিড় ধরে। 

বড় ছেলে এনজো জিদানের বয়স ৩০ হওয়ায় জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে, অন্যদিকে থিও (২৩) ও এলিয়াজ (২০) এখনও ভবিষ্যতের অপেক্ষায় আছেন। একমাত্র লুকা আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন। 

পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে জাতীয় দল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লুকা। ফরাসি যুব দলে খেলা এই গোলকিপার বেছে নেন আলজেরিয়া জাতীয় দলকে।

আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ম্যাচে আলজেরিয়ার হয়ে তিনি সুদানের বিরুদ্ধে নামেন। দলের ৩–০ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লুকা।

লুকার এই সিদ্ধান্তে এসেছে পারিবারিক শিকড় ও দাদুর প্রভাব। তাঁর ভাষায়, আলজেরিয়ার কথা ভাবলেই দাদুর কথা মনে পড়ে যায় তাঁর। আর সেই শিকড়ের টান থেকেই তিনি বেছে নেন আলজেরিয়া। জিনেদিন জিদানও বিষয়টি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে সম্মান জানিয়ে তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন।

লুকা আরও জানিয়েছেন, জাতীয় দলে তিনি দাদুর সম্মানে নিজের জার্সিতে ‘জিদান’ নাম ব্যবহার করতে চান। এই নাম তাঁর কাছে আবেগ ও গর্বের বিশেষ মুহূর্ত। 

গ্যালারিতে বসে ছেলে লুকার পারফরম্যান্স দেখেছেন জিনেদিন জিদান। ছেলে খেললেই তাঁর সঙ্গে তুলনা হবে কিংবদন্তি জিদানের। বাবার সঙ্গে যেন তুলনা না হয়, সেই কারণে মিডফিল্ডার না হয়ে গোলকিপার হয়েছেন লুকা। 

ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে বিভিন্ন পর্যায়ে খেলা লুকার জন্য আলজেরিয়া জাতীয় দল বেছে নেওয়াটা একটু অবাক করার মতোই। বিশেষ করে ২৭ বছর বয়সে।

আলজেরিয়া জাতীয় দল বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে একটি সংবাদ মাধ্যমকে লুকা বলেন, ''আলজেরিয়ার কথা ভাবলে দাদুর কথা মনে পড়ে যায়। সেই শৈশব থেকে আমাদের পরিবারে আলজেরিয়ান সংস্কৃতি চালু আছে। জাতীয় দলে খেলার আগে আমি দাদুর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমার এই পদক্ষেপে খুবই খুশি হন।'' 

লুকা জানিয়েছেন, তাঁর বাবা জিদানও আলজেরিয়া জাতীয় দলে খেলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। লুকাকে বলতে শোনা গিয়েছে,''তিনি আমাকে সমর্থন জানান। বলেছেন, এটা তোমার সিদ্ধান্ত। আমি পরামর্শ দিতে পারি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা তোমার।''  

রিয়ালের বয়সভিত্তিক দলে কেরিয়ার শুরু করা লুকা এখন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের দল গ্রানাডায় খেলেন। ক্লাব ফুটবলে জার্সিতে 'লুকা' নাম নিয়ে খেললেও জাতীয় দলে 'জিদান' নামে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লুকা।