কৃশানু মজুমদার: ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কয়েকটি মুহূর্ত চিরকাল অমর হয়ে থাকবে, তার একটি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনার সেই অবিশ্বাস্য ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’।
সেই গোলের গল্প শুরু হয়েছিল মাঝমাঠ থেকে। মারাদোনার পায়ে বলটি তুলে দিয়েছিলেন হেক্টর এনরিকে।
ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম হয়তো মারাদোনার মতো উজ্জ্বল নয়, কিন্তু সেই একটা পাসই তাঁকে চিরস্থায়ী করে রেখেছে ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে।
বিশ্বজয়ী সেই দলের অন্যতম সদস্য হেক্টর এনরিকের ঘরে আজও যেন বেঁচে রয়েছেন দিয়েগো মারাদোনা।
আর্জেন্টিনা যখন আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল, তখন টেলিভিশনের সামনে বসে থাকা এনরিকে আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। উচ্ছ্বাসে, গর্বে আর ভালবাসায় ভরা কণ্ঠে তিনি আজকাল ডট ইন-কে বললেন,“কী অসাধারণ এক মানুষ! কী দুর্দান্ত! এটাই তো, ধুর, এটাই মেসি! তুমি একেবারে দানব! ৩৯ বছর বয়সেও এমন খেলা! তুমি আমাদের সবার জন্য, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য এক উদাহরণ। তোমাকে অভিনন্দন। আর্জেন্টিনা থেকে আমরা সবাই তোমাকে অভিনন্দন জানাই। তুমি একজন প্রতিভা, অনন্য এক প্রতিভা।”
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ জেতার গল্পগুলো প্রায় একই। সেই পিছিয়ে পড়া, হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, তারপর হঠাৎ করেই ফিরে আসার এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য লিখে দিচ্ছেন মেসিরা।
যখন সবাই ধরে নিচ্ছে, এবার হয়তো আর বাঁচার পথ নেই, যখন সময়ের কাঁটা শেষ আশাটুকুও কেড়ে নিতে চাইছে, ঠিক তখনই কাহানি মে টুইস্ট। লিওনেল স্কালোনির দল প্রমাণ করছে, তাদের গল্পের শেষ লাইন লেখা হয় একেবারে শেষ মুহূর্তে।
আর্জেন্টিনা আবেগে ফুটছে। আবেগে ফুটছেন এনরিকেও। আর্জেন্টিনার এই সাফল্যের পিছনে যে একটি দলের নিরলস পরিশ্রম, আত্মত্যাগ আর লড়াই রয়েছে, সেটিও সমান আন্তরিকতায় স্মরণ করেছেন এনরিকে। তিনি বলেন, “আমাদের ছেলেদের কথাও বলতে হবে। তারা মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। এক মুহূর্তের জন্যও হাল ছাড়েনি। তারা ফুটবলকে সম্মান করেছে, যে ফুটবল আমরা ভালবাসি, যে ফুটবল আর্জেন্টিনার পরিচয়।''
মারাদোনা নেই, কিন্তু তাঁর আত্মা, তাঁর অনুপ্রেরণা, তাঁর বিশ্বাস যেন এখনও এই দলের সঙ্গেই হাঁটাচলা করে। সেই অনুভূতিকেই ভাষা দিলেন এনরিকে,
“আর এখানে, কুইঞ্চাদিয়ো থেকে, দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা সবসময়ে তোমাদের সঙ্গেই আছেন। তোমরা সবাই দানব, সবাই বিরল প্রতিভা।”
এই কয়েকটি বাক্যে যেন ধরা পড়ে আর্জেন্টাইন ফুটবলের পুরো দর্শন। অতীত বর্তমানকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যায়। যেখানে মারাদোনার স্মৃতি মিশে যায় মেসির মোহময়ী জাদুর সঙ্গে। আর এক প্রজন্মের স্বপ্ন আরেক প্রজন্মের পায়ে নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
















