আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একবার দুরন্ত প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার। এবার লিওনেল মেসির হাত ধরে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ম্যাচের শেষ ১২ মিনিট নাটকীয় মোড় নেয়। ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও এনজো ফার্নান্ডেজের গোলে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। এরপর অতিরিক্ত সময়ে লাওতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোল। যার পিছনে ছিল মেসির দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট। ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এরপর কোচ টমাস টুখেল রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করেন। শেষপর্যন্ত সেই কৌশলই ইংল্যান্ডের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলাররা। এই হারে হতাশ প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ওয়েন রুনি বলেন, 'আমরা ভেঙে পড়েছি। সবকিছুর শুরু কোচ এবং তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে। কৌশলটা অত্যন্ত নিষ্ক্রিয় ছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে এমন করে পার পাওয়া যায় না। এটাই ছিল সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, আর আমরা তাতে ব্যর্থ হয়েছি।'

আরও এক প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরারও টুখেলের কৌশলের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'নরওয়ে বা মেক্সিকোর বিরুদ্ধে কোনওভাবে টিকে যাওয়া এক জিনিস। ওদের কাছে এই আর্জেন্টিনা দলের মতো বল দখলে রাখার বা প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নেই। টুখেল খুব তাড়াতাড়ি নিজের তাস খেলে ফেলেছিলেন। শেষপর্যন্ত সেটা উল্টো ফল দিয়েছে।' প্রাক্তন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, 'নরওয়ে এবং মেক্সিকো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে আমি এক মুহূর্তের জন্যও সেই আতঙ্ক দেখিনি। বরং আত্মবিশ্বাস ছিল। তাঁরা বুঝেছিল কীভাবে পকেটের মধ্যে থাকা তারকা লিওনেল মেসিকে আরও স্বাধীনতা দেওয়া যায়। এরপর ইংল্যান্ডের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আক্রমণ চালিয়েছে।'

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন স্ট্রাইকার ক্রিস সাটনও সরাসরি দায় চাপিয়েছেন টুখেলের ওপর। তিনি বলেন, 'ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছে। এটা ছিল টমাস টুখেলের কোচিংয়ের এক বিপর্যয়। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ৩০ মিনিট শুধু রক্ষণ করে টিকে থাকা যায় না।' সাটন আরও বলেন, 'আমার মতে, সব দায় কোচের। তিনিই পরিবর্তন এনেছেন, তিনিই নেতিবাচক কৌশল নিয়েছেন। তাই প্রশ্ন উঠবেই। টমাস টুখেলকে কীভাবে এই দলকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বাস করা যায়?' এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে ফের বড় ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও শেষপর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারানোর পুরনো সমস্যাই আবারও উঠে এল।