আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডাচ স্পিড স্কেটার Jutta Leerdam ইতালিতে আয়োজিত শীতকালীন অলিম্পিকে ৯ ফেব্রুয়ারি ১০০০ মিটার স্পিড স্কেটিং ইভেন্টে সোনা জিতে শিরোনামে আসেন। তবে তাঁর উদযাপনের একটি মুহূর্ত নিয়েই বেশি আলোচনা শুরু হয়।
স্বর্ণপদক জয়ের পর তিনি নিজের কমলা-নীল রেসিং স্যুটের চেন খানিকটা খুলে সাদা রঙের Nike স্পোর্টস ব্রা প্রকাশ করেন। লিরডামের সঙ্গে নাইকের বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে, যদিও প্রতিযোগিতার স্কেটিং স্যুট তৈরি করে FILA। ফলে অনেকের ধারণা ছিল, এটি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কড়া বিজ্ঞাপন বিরোধী নিয়ম লঙ্ঘন করতে পারে।
নাইকে তাদের ২৯৮ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর কাছে লিরডামের উদযাপনের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখে, “When you’re this fast, you don’t ask for permission,” এবং জানায় তিনি অলিম্পিক রেকর্ড ভেঙে প্রথম স্বর্ণ জিতেছেন। বিপণন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দৃশ্য ভাইরাল হওয়ায় নাইকের সঙ্গে তাঁর চুক্তির মূল্য মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ডাচ বিপণন বিশেষজ্ঞ ফ্রেদেরিক দে লাত স্থানীয় পত্রিকা AD–কে বলেন, “নাইকের সঙ্গে চুক্তি মিলিয়নের ওপরে যেতে পারে।”
তবে শেষ পর্যন্ত International Olympic Committee (আইওসি) জানিয়ে দিয়েছে, লিরডামের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আইওসি টেলিভিশন ও মার্কেটিং সার্ভিসেসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান-সোফি ভুমার বলেন, রেস শেষে স্কেটারদের স্যুটের চেন খোলা “স্বাভাবিক অভ্যাস”, কারণ পোশাক অত্যন্ত আঁটসাঁট হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, এটি ‘অ্যামবুশ মার্কেটিং’-এর ঘটনা নয়।
লিরডামের ইনস্টাগ্রামে অনুসারী সংখ্যা ৬ মিলিয়নেরও বেশি। আইওসি সূত্রে জানা গেছে, অলিম্পিকের অভিজ্ঞতা সরাসরি ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাথলিটদের ভূমিকা তারা ইতিবাচকভাবেই দেখছে। ২০২৪ সালের Paris 2024 Olympic Games–এর পর আইওসি সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির নিয়ম শিথিল করে। আইওসি অ্যাথলিটস ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর কাবেহ মেহরাবি জানান, অ্যাথলিটদের তৈরি কনটেন্ট থেকে ১.৩ বিলিয়নেরও বেশি সামাজিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে তারা গর্বিত।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও লিরডাম আলোচনায় থাকেন। তিনি ইউটিউবার থেকে বক্সার হওয়া Jake Paul–এর সঙ্গে বাগদান সেরেছেন। পল সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর জয়ের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “I’m so proud of you” এবং “My baby just set the Olympic world record।”
সব মিলিয়ে, সোনাজয়ের মুহূর্তে স্পোর্টস ব্রা প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক উঠলেও আইওসি–র ব্যাখ্যার পর তা শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। বরং অলিম্পিক মঞ্চে অ্যাথলিটদের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও সামাজিক মাধ্যমের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
