আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গল রাতে পাহাড়ের কোলে ঝড়। না, কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়। রজত পতিদার তুফান। তাতে লণ্ডভণ্ড গুজরাট। ক্যাপ্টেনস ইনিংসের আদর্শ বিজ্ঞাপন। কঠিন সময় ব্যাট করতে নেমে একার হাতেই রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে আইপিএলের ফাইনালে তুললেন রজত পতিদার । ৩৩ বলে ৯৩ রানে অপরাজিত। ৯টি ছয় এবং ৫টি চারে ইনিংস সাজান। স্ট্রাইক রেট প্রায় ২৮২। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ওভারের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রান তোলে বেঙ্গালুরু। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আত্মসমর্পণ গুজরাটের। ৫১ রানে ৫ উইকেট হারায় শুভমন গিলের দল। পাওয়ার প্লের মধ্যেই গুজরাটের অর্ধেক দল প্যাভিলিয়নে। এই জায়গা থেকে ম্যাচে ফেরা সম্ভব নয়। হয়ও নি। ১৯.৩ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট গুজরাট। ৯২ রানে বিরাট জয় কোহলিদের। পরপর দু'বার আইপিএলের ফাইনালে আরসিবি। 

আইপিএলের প্লে অফে এত বড় রান করে কোনও দল এখনও পর্যন্ত হারেনি। সুতরাং, প্রথম ইনিংসের শেষে প্রথম কোয়ালিফায়ারের দেওয়াল লিখন হয়ে গিয়েছিল। শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। তবে গিলরা এইভাবে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়বে ভাবা যায়নি। চলতি আইপিএলের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল বেঙ্গালুরু এবং গুজরাট। কিন্তু এদিন ম্যাচ পুরোপুরি একপেশে। লড়াই করতেই পারেনি। টসে জিতে বেঙ্গালুরুকে ব্যাট করতে পাঠান শুভমন। ফিল সল্ট-এর জায়গায় ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে খেলানো হয়। বিরাট কোহলির সঙ্গে ওপেন করেন। প্রথম ওভারে আশা জাগান। দীর্ঘদিন বেঞ্চে কাটানোর পর আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করেন। কিন্তু বেশিক্ষণ উইকেটে টেকেননি। ৭ বলে ১৯ রান করে আউট হন। ২১ রানে প্রথম উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু।

এদিন শুরুতে সুবিধা করতে পারছিলেন না কোহলি। কিন্তু মেজাজে ফিরতে বেশিক্ষণ লাগেনি। পাওয়ার প্লের শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান ছিল বেঙ্গালুরুর। কোহলির সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান দেবদত্ত পাড়িক্কল। দু'জনেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিল। এই জুটি ব্যাট করার সময় মনে হচ্ছিল রানের পাহাড়ে পৌঁছে যাবে আরসিবি। কিন্তু তাঁদের এই গতি থামান জেসন হোল্ডার। নবম ওভারে মাত্র এক বলের ব্যবধানে ফেরান দুই সেট ব্যাটার কোহলি (৪৩) এবং পাড়িক্কলকে (৩০)। পরের কয়েক ওভার কিছুটা মন্থর ছিল আরসিবির ব্যাটিং। সেট হতে একটু সময় নেন রজত পতিদার এবং ক্রুনাল পাণ্ডিয়া। তারপর যে কে সেই! প্রথম ১৪ বলে ২২ রান করেন রজত। পরের ১৯ বলে করেন ৭১ রান। পরিসংখ্যানই স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে ছবির মতো সুন্দর ধর্মশালায় কতটা তাণ্ডব চালান বেঙ্গালুরুর নেতা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন ক্রুনাল (৪৩)। শেষদিকে ৫ বলে গুরুত্বপূর্ণ ১৫ রান যোগ করেন জীতেশ শর্মা। জোড়া উইকেট নেন কাগিসো রাবডা এবং জেসন হোল্ডার।

ব্যাট করতে নেমে জোড়া চার দিয়ে শুরু করেন সাই সুদর্শন। কিন্তু উইকেটে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি কমলা টুপির মালিক। ডাফির বলে ১৪ রানে হিট উইকেট হন। ব্যর্থ শুভমন গিল। মাত্র ২ রানে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে সরাসরি বোল্ড। গুজরাটের ব্যাটিং টপ থ্রি নির্ভরশীল। এদিন দলের প্রয়োজনে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ জস বাটলার। মারকুটে মেজাজে শুরু করলেও, ১১ বলে ২৯ রান করে হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হন। বাকিরা কেউ দুই অক্ষরের রানে পৌঁছতে পারেনি। শেষদিকে একাই লড়াই করেন রাহুল তেওয়াটিয়া (৬৮)। কিন্তু তাঁর একার পক্ষে পাহাড়প্রমাণ রানে পৌঁছনো সম্ভব ছিল না। ৬ ওভারের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে গুজরাটের রান ছিল ৫১। এখানেই হাতছাড়া হয়ে যায় ম্যাচ। তবে ফাইনালে যাওয়ার আরও একটা সুযোগ পাবে গিলরা। শুক্রবার খেলতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের বিজয়ী দলের সঙ্গে।