আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিরাট কোহলি শুধু একজন ব্যাটসম্যান নন, বরং এক অনুভূতির নাম। প্রতিটি রান তাঁর কাছে সংখ্যার হিসেব নয় বরং এক একটি গল্প। প্রত্যাবর্তনের, লড়াইয়ের এবং বিশ্বাসের।

কোহলির খেলা দেখলে মনে হয় জীবনও বোধহয় এমনই হওয়া উচিত। পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানো, অন্ধকারের মধ্যেও আলোর খোঁজ দেওয়া। আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়া।

বিরাট কোহলি তাই শুধু রেকর্ডের গল্প নয়, তিনি এক  কবিতা। যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে লেখা হচ্ছে
অদম্য মানুষের এক অনন্ত উপাখ্যান। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচেও তিনি লিখে গেলেন নতুন রূপকথা। 

এদিন ৩৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থেকে যান কোহলি। তাঁর জন্যই সানরাইজার্সের ২১০ রানকেও বিরাট মনে হল না। 

সানরাইজার্সের রান তাড়া করতে নেমে কোহলি গড়ে ফেলেন  ঐতিহাসিক কীর্তি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রান করা এশীয় ব্যাটার হিসেবে তিনি রেকর্ড ভাঙলেন। যে রেকর্ড আগে ছিল পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের ঝুলিতে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অনেক কম ম্যাচ খেলেই এই মাইলফলকে পৌঁছন। যা তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতারই প্রমাণ দেয়।

তাঁর আগে শোয়েব মালিক ৫৫৭টি ম্যাচে ১৩,৫৭১ রান করে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন। অন্যদিকে, বিরাট কোহলি মাত্র ৪১৫টি ম্যাচেই সেই রান ছাড়িয়ে গেলেন। 

 ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পরে কনিষ্ঠ ফরম্যাট থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন কোহলি। ভারতের হয়ে ১২৫টি ম্যাচে (১১৭টি ইনিংসে) তিনি ৪,১৮৮ রান করেন, যার মধ্যে রয়েছে ৩৮টি পঞ্চাশ ও একটি সেঞ্চুরি। 

তারপর থেকে টি- টোয়েন্টি ফরম্যাটে কোহলি খেলছেন কেবল আইপিএল। কোহলি যে ১৪২টি ম্যাচ কম খেলে শোয়েব মালিককে ছাপিয়ে গিয়েছেন,  তা তাঁর অসাধারণ ধারাবাহিকতা ও আধিপত্যকেই আরও একবার প্রমাণ করে। 

আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে কোহলির বিরাট পারফরম্যান্স দেখার পরে অনেকেই বলছেন, কেন যে তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে সরে গেলেন, তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন।