আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুঃস্বপ্নের নাম রোহিত শর্মা। কেকেআরের বিরুদ্ধে এক হাজার রানের মাইলফলক ছাপিয়ে গিয়েছেন তিনি। সময় বদলায়, দিন বদলে যায় কেকেআরের দুঃস্বপ্ন বদলায় না। হিটম্যান একই থেকে যান। চলতি আইপিএলেও রোহিত শর্মা কলকাতাকে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন। 

২২০ রান তাড়া করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স আগে কখনও জেতেনি। এর আগে ২১৯ রান তাড়া করে জিতেছে। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ওয়াংখেড়েতে মুম্বই সব রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল। সেই সঙ্গে ইতিহাসের চাকাও ঘোরাল মুম্বই। 

২০১২ সালের পর টানা ১৩টি মরশুমে আইপিএলের প্রথম ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি মুম্বই। এদিন সেই অদৃষ্ট বদলাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ১৩ বছর পরে আইপিএলের প্রথম ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল মুম্বই। 

ইতিহাস বদলাল সেই কলকাতার বিরুদ্ধেই। মুম্বই-কলকাতা মহারণের আগে তিরাশির বিশ্বজয়ী দলের সদস্য কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত বলেছিলেন, রোহিতের কাছে কলকাতা 'হালুয়া'র মতো উপাদেয় খাবার। ওয়াংখেড়েতে শ্রীকান্তের কথা প্রমাণ করলেন রোহিত।  

কলকাতার পাহাড়প্রমাণ ২২০ রান তাড়া করতে নেমে ওয়াংখেড়েতে  দেখা গেল রোহিত রোশনাই। তিনি ও রায়ান রিকেলটন শুরু থেকেই ঝড় তুললেন। নাইটদের সাজঘর থেকে ম্যাচ নিয়ে এলেন মুম্বইয়ের সাজঘরে। 

কেকেআরের বোলিং বিভাগে রয়েছে রক্তাল্পতা। মেগা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চোট আঘাতের লাল চোখ দেখে ছিটকে গিয়েছেন আকাশদীপ, হর্ষিত রানারা। পাথিরানার দলে যোগ দিতে সময় লাগবে। এই বোলিং নিয়ে মুম্বইকে কি থামিয়ে রাখা সম্ভব? রোহিতকে কি শান্ত রাখা যায়? 

যায়ওনি। বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিন দুই রহস্যস্পিনার। তাঁরাও পারলেন না মুম্বই ঝড় থামাতে। বরুণ চক্রবর্তীর ধার কমেছে।  সুনীল নারিনও আর আগের মতো বিধ্বংসী নন। 

রোহিত ও রিকেলটন নির্দয় হয়ে ধরা দিলেন। শনিবার আইপিএলের প্রথম ম্যাচে বিরাট কোহলি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। এদিন রোহিত খেললেন ৩৮ বলে ৭৮ রানেরক বিধ্বংসী ইনিংস। ৬টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো ছিল হিটম্যানের ইনিংস। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই বৃদ্ধ সিংহ কোহলি ও রোহিত শুরুটাই করলেন অবিশ্বাস্য ভাবে। দু'জনে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির হলেও অদৃশ্য কোনও শত্রুকে যেন জবাব দিয়ে যাচ্ছেন দুই তারকা। 

রোহিতের পাশাপাশি রিকেলটনও নাইট বোলিংকে নিয়ে ছেলেখেলা করলেন। ওপেনিং জুটিতে দুই ওপেনার ১৪৮ রান করে ম্যাচ পকেটে নিয়ে নিলেন। 

ইমপ্যাক্ট হিসেবে নামা সূর্যকুমার যাদব ৮ বলে চটজলদি ১৬ রান করে গেলেন। কলকাতা ক্যাচ ফেলল একাধিক। প্রথমে রমনদীপ, পরে বৈভব ফেললেন রিকেলটনের ক্যাচ। সেই রিকেলটন শেষ পর্যন্ত রান আউট হয়ে গেলেন কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই। নিশ্চিত সেঞ্চুরি ফেলে এলেন তিনি। এই মুম্বই দলে গভীরতা অনেক বেশি। তাই উইকেট চলে গেলেও আতঙ্ক গ্রাস করে না। পাঁচ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল মুম্বই। নিলামে পছন্দের ক্রিকেটার বেছে নিলেও শুরুতেই হোঁচট খেল কেকেআর। অন্যদিকে মুম্বই বাকি দলগুলোকে নিজেদের শক্তি বুঝিয়ে দিল।