আজকাল ওয়েবডেস্ক: আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল এক নতুন গতিদানবের। গুজরাট টাইটান্সের আনক্যাপড পেসার অশোক শর্মার গতিঝড়ের মোকাবিলা করতে হল রাজস্থান রয়্যালসকে। ২০২৬ আইপিএল মরশুমের দ্রুততম বলটি করলেন তিনি। তাঁর একটা ডেলিভারির গতি ঘণ্টায় ১৫৪.২ কিমি। 

রেকর্ড গড়া সেই মুহূর্তটি এল ইনিংসের ১৬-তম ওভারে। অশোক শর্মা ঝড়ের গতিতে দৌড়ে এসে ধ্রুব জুরেলের উদ্দেশে ইয়র্কার নিক্ষেপ করলেন। জুরেল শেষ মুহূর্তে কোনওমতে ব্যাট নামিয়ে নিজেকে রক্ষা করলেও বলটি কোথায় গেল, তা বুঝতে পারেননি রাজস্থান উইকেটকিপার।

আগের বলেই ফিল্ডিং করার সময়ে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন অশোক। ডোনোভান ফেরেরার একটি জোরালো স্ট্রেট ড্রাইভ থামাতে গিয়ে তিনি আঘাত পান। সেই যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করেই তিনি মরশুমের দ্রুততম ডেলিভারিটি করেন।

২৩ বছরের এই যুবক তাঁর ৪ ওভারের স্পেলে তিনবার ১৫০ কিমি-র গণ্ডি ছাড়িয়ে বল করেন। রাজস্থান রয়্যালস করেছিল ২১০ রান। হেটমায়ারকে আউট করেন অশোক। ওটাই তাঁর একমাত্র উইকেট। কিন্তু দেড়শো কিমির বেশি গতিতে বল করে তিনি চমকে দিয়েছেন।  

?ref_src=twsrc%5Etfw">April 4, 2026

ধারাভাষ্য দেওয়ার সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন স্পিডস্টার ডেল স্টেইন অশোকের বোলিং অ্যাকশন বিশ্লেষণ করে বলেন, ওর রান-আপ বেশ সুন্দর। ডেলিভারির সময়ে মাথা ও দৃষ্টি একদম স্থির থাকে। 

অশোক শর্মার আইপিএল অভিষেক হয়েছিল চলতি সপ্তাহের শুরুতে। ৩১ মার্চ পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে। নিজের প্রথম ডেলিভারিতেই তিনি ১৪৯.৭ কিমি গতি তুলে চমকে দিয়েছিলেন।

সেই ম্যাচে মার্কো জানসেনকে  স্লোয়ারে আউট করে নিজের প্রথম উইকেট নিয়েছিলেন। অধিনায়ক শুভমান গিল তাঁর প্রশংসা করে বলেছিলেন, "ও কঠোর পরিশ্রমী এবং আমাদের দলের একজন ভাল ফিল্ডারও। কয়েক মাস আগে ক্যাম্পেই আমি ওর নতুন বলের বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।"

এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রাজস্থান রয়্যালসের ক্যাম্পে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি অশোক। ২০২৬-এর নিলামে ৯০ লক্ষ টাকায় তাঁকে দলে নেওয়া যে গুজরাট টাইটান্সের জন্য এক 'মাস্টারস্ট্রোক' ছিল, তা আজ প্রমাণিত। যে ছেলেটি একসময় ক্রিকেট ছেড়ে লাঙল ধরার কথা ভেবেছিল, আজ সেই ছেলে ব্যাটারদের কাছে ভয়ের কারণ।

জয়পুরের নিকটবর্তী জয়পুরের কাছে রামপুরা গ্রামের এই ছেলের উঠে আসার গল্পটি বেশ অন্যরকম। এক সাধারণ কৃষক পরিবারে বড় হওয়া অশোকের স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে দাদা অক্ষয় শর্মা ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছিলেন।  পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে বাবা নাথুলাল কেবল একজনেরই খরচ বহন করতে পারতেন। বড় ভাই অক্ষয় নিজে খেলা ছেড়ে চাষবাস ও পড়াশোনায় মন দেন, যাতে ভাই অশোক ক্রিকেটটা মন দিয়ে চালিয়ে যেতে পারে। 

 তিন বছর আগে রাজ্যের অনূর্ধ্ব ২৩ দলে সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন অশোক। ক্রিকেট ছেড়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং বাবার সাথে জমিতে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু নিয়তি তাঁকে ফিরিয়ে আনল ২২ গজের সেই চেনা লড়াইয়ে। আর সেই অশোক গতিদানব হয়ে উঠলেন আইপিএলের দুনিয়ায়।